ইফতার সামনে নিয়ে আজানের অপেক্ষায় তাসমিম। জিজ্ঞেস করে আম্মু আজানের কতক্ষণ বাকি। মোনাজাতে আবার দোয়াও করে দাদু-নানুদের জন্য। কেননা আজ তার জীবনের প্রথম ইফতার। তার ওপর রোজা এখনো ফরজ হয়নি। আজানের সুর শোনামাত্র ইফতার গ্রহণ করল। ইফতার শেষে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে বলল, আম্মু আজও রোজা রেখেছি আগামীকালও রাখব, আমাকে সাহরিতে ডেকে তুলিও। কী যে আনন্দ তার মনে। শিশুদের ইফতারে খুশি মা ও বাবা। আনন্দের সুরে গল্পও করেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। তবে আপনার শিশুর বয়সি শিশু প্রতিবেশীদের ঘরে রয়েছে। তারা আপনার সন্তানের মতো রোজা রাখে। তবে বাহারি ইফতার নেই তাদের ঘরে। বাবা সারা দিন কাজ করে যা উপার্জন করেন তা দিয়ে ইফতারসামগ্রী ফল ক্রয় করা খুবই দুষ্কর, অথচ একটিবারও তাদের খবর নেওয়া হলো না। সাহরি ও ইফতার কীভাবে শিশুটি পরিবার নিয়ে করল তা দেখার কেউ নেই। অথচ আমাদের ঘরে বাহারি ইফতারসামগ্রী। কী হবে এত খাবার দিয়ে যদি আমার প্রতিবেশীদের খবর না নিই। প্রতিবেশীদের ব্যাপারে হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার দুজন প্রতিবেশী আছে, কার কাছে আমি উপহার পাঠাব? রসুলুল্লাহ বললেন, যার দরজা তোমার অধিক নিকটবর্তী। বুখারি শরিফ।
আজও ইফতার মাহফিলের অভাব নেই। এলাকার বড় রাজনৈতিক ব্যক্তি বা হাজি সাহেবরা এই আয়োজনের প্রধান অতিথি। বিশেষ অতিথি এলাকার গণ্যমান্য ধনী ব্যক্তিরা। টেবিলে সাজানো বাহারি ইফতার। বিশেষ অতিথিরা প্রধান অতিথির প্রশংসায় ব্যস্ত। তবে অতিথিরা এই ইফতার মাহফিলে আল্লাহর প্রশংসা ও নবীর প্রতি সালামের সময়টুকুও পেল না। সংক্ষিপ্তভাবে দোয়া। এলাকার ধনী বিত্তশালীরা ইফতার গ্রহণ করছে। আপনার যে সন্তান রোজা রেখেছে তার বয়সি পথশিশুটিকে কেউ আজকের ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দিল না। তবে আশা নিয়ে এসেছিল, কেননা আজও সে রোজা রেখেছে। পরিচয়হীনতার কারণে আয়োজকরা পথশিশুটির খোঁজ নিল না, শিশুটিও ইফতার পেল না। ধনী ব্যক্তিরা আনন্দে ইফতার করেছে, অথচ পথশিশুটি বাইরে দাঁড়িয়ে অঝোর ধারায় কাঁদছে। আজ বিবেককে জাগ্রত করার সময় এসেছে, লাখ টাকা ইফতারিতে খরচ হলো অথচ যেই ইফতার মাহফিল গরিব অসহায় মুসাফিরদের প্রবেশে বাধা। ধনীরা ইফতার পায় আর পথশিশুদের চোখে পানি। তাহলে এই ইফতারে কতটুকু আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব।
♦ লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক