পঞ্চগড়ে বাদাম আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রতি বছরের মতো এবারও ভালো দাম পাবেন স্বপ্ন দেখছেন তারা। জেলার পাঁচ উপজেলায়ই বাদাম আবাদ হয়। এবার অনেকে বাদাম আবাদের পরিধি বাড়িয়েছেন। বাদাম চাষাবাদে পরিবারের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই অংশ নিচ্ছেন।
দেশের বাদামের মোট চাহিদার সিংহভাগ উৎপাদন হয় উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। এ জেলার বাদাম যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। চাষিরা আশা করছেন আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন পাবেন।
অন্য আবাদের তুলনায় খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় বাদামের দিকে ঝুঁকেছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার সব উপজেলায়ই কমবেশি বাদাম আবাদ হয়। তবে করতোয়া বিধৌত দেবীগঞ্জ উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে। চাষিরা বলছেন, প্রতি বিঘায় খরচ হবে ৮-১০ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে তারা বিঘাপ্রতি ১২-১৫ মণ বাদাম ঘরে তুলবেন। গত বছর প্রতি মণ বিক্রি করেছেন ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকায়। এবারও এমন দাম পেলে খরচ বাদে ৩০-৪০ হাজার লাভ হবে।
বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার চাষি পরিমল কুমার জানান, কয়েক বছর ধরে বাদাম চাষ করছি। বাদাম বিক্রি করে করেছি ঘর পাকা। ধান চাষ করে এত লাভ না। একই এলাকার ময়না বেগম জানান, এক বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে বাদাম আবাদ করে লাভবান হয়েছেন তারা। পরিবারের সবাই মিলে বাদাম খেতে কাজ করতে পারেন। বাদাম চাষাবাদের কারণে কর্মসংস্থানও হয়েছে অনেক শ্রমজীবীর। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা বাদামের খেতে কাজ করে উপার্জন বাড়িয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবদুল মতিন জানান, ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এ বছর প্রায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টরে আবাদ হচ্ছে।