রাজশাহীতে ভরাট হওয়া পুকুর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু করেছে প্রশাসন। নগরীর ঘোষপাড়া মোড় এলাকায় প্রায় সাড়ে ৩ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর কিছুদিন ধরে অল্প অল্প করে ভরাট করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ সরকার ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করেছেন।
গতকাল সকালে তিনি শ্রমিক নিয়ে পুকুরটির উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। এই পুকুর নগরীর ঘোষপাড়া ফকিরপাড়া মহল্লায়। এটি ‘জোড়া পুকুর’ নামে পরিচিত। বোয়ালিয়া মৌজায় অবস্থিত এই পুকুর ব্যক্তি মালিকানাধীন। তবে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সংরক্ষণের তালিকায়ও পুকুরটি আছে। এর অংশীদারদের সঙ্গে চুক্তি করে কিছুদিন ধরে ভরাট শুরু করেছিলেন হিকু নামের ওই এলাকার এক ঠিকাদার।
একসময় রাজশাহী শহরে অসংখ্য পুকুর ছিল। কিন্তু অল্প কিছু পুকুর ছাড়া সবই ভরাট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ ২০১৪ সালে হাই কোর্টে রিট করে। তখন বোয়ালিয়া ভূমি কার্যালয় গণনা করে নগরীতে ৯৫২টি পুকুরের অস্তিত্ব পায়। ২০২২ সালের ৮ আগস্ট হাই কোর্ট এই পুকুরগুলো সংরক্ষণসহ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। রাজশাহী শহরে আর কোনো পুকুর যেন ভরাট না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়। পাশাপাশি ভরাট হওয়া পুকুরগুলো আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনারও নির্দেশনা দেন হাই কোর্ট। কিন্তু ওই নির্দেশনার পরও শহরে একের পর এক পুকুর ভরাট হয়েছে। দীর্ঘ সময়েও একটি পুকুরও আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়নি। এই প্রথম ঘোষপাড়া ফকিরপাড়া মহল্লার পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। এতে খুশি এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা।
শ্রমিকদের সর্দার রেজাউল করিম বলেন, ‘সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসেছিলেন। মাপজোখ করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, কতদূর পর্যন্ত মাটি কেটে ওপরে তুলতে হবে। আমরা কাজ শুরু করেছি।’ পুকুরপাড়ে ছিলেন ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারী। তারা জানান, পুকুরটির আয়তন প্রায় সাড়ে তিন বিঘা। এর মধ্যে দুই পাড়ে প্রায় ১০ কাঠা ভরাট করে ফেলা হয়েছে। খতিয়ানে যে অংশটুকু পুকুর, সেটুকু তারা উদ্ধার করবেন। সেই মাটি কেটে পাড়ের অংশে ফেলা হবে।
বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন আমাদের জানান যে, পুকুরটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। তাই আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা যদি পুকুর ভরাটের খোঁজ পাই, তাহলে আগামীতেও অবশ্যই এই কার্যক্রম চলবে।’