অন্তর্বর্তী সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সংস্কারের অজুহাতে কিংবা অন্য কোনো বাহানায় চলতি মাসের মধ্যে সরকার যদি নির্বাচনি রোডম্যাপ ঘোষণা না করে তবে দেশের রাজনৈতিক শক্তিগুলো এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ইনিয়েবিনিয়ে বিদেশি মিডিয়ায় না বলে দেশে সংবাদ সম্মেলন করে রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে নির্বাচনি রোডম্যাপ ফেলে রাখার কোনো কারণ নেই। গতকাল রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ত্যাগ ও নেতৃত্ব শীর্ষক আলোচনা সভা ও নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ছাত্রদের নতুন দলকে স্বাগত জানিয়ে তাদের উদ্দেশে গণপরিষদ ও স্থানীয় নির্বাচন এবং দ্বিতীয় স্বাধীনতার বিষয়টিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করার ষড়যন্ত্র বলেও মন্তব্য করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। গণপরিষদ নির্বাচনের দাবির বিষয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, সংবিধান থাকার পরও গণপরিষদ প্রয়োজন কেন? যারা এসব প্রশ্ন সামনে আনছেন, হয় তারা বোঝে না অথবা তারা গভীর ষড়যন্ত্রে যুক্ত আছেন।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা থাকলে ’২৪-এর গণ অভ্যুত্থানের পথ রচিত হতো না। বিএনপি জানত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় গিয়ে স্বৈরাচার হয়ে উঠবে। বিএনপি জানত আওয়ামী লীগের পতন হবে। কিন্তু কবে হবে সেটার জন্যই অপেক্ষায় ছিল। তিনি বলেন, যদি আওয়ামী লীগ আবার এ দেশে রাজনীতির সুযোগ পায় সেটা হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতা। শুধু পুলিশ দিয়ে আওয়ামী লীগ মোকাবিলা করলে হবে না। এদের সমূলে বিতাড়িত করতে হবে। ৫ আগস্ট নির্ধারণ হয়ে গেছে আওয়ামী লীগ এই দেশে রাজনীতি করতে পারবে না, এই রায় জনগণ ৫ আগস্ট দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ও সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. আনোরুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।