গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় নেই কাঁচা ও পাকা রাস্তা, দুর্ভোগ হাজার হাজার মানুষের। সেই সঙ্গে নেই পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা। ফলে মানুষের ফসলি জমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিষাক্ত তরল বর্জ্য। মানুষ পাচ্ছে না নাগরিক সুবিধা। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা রয়েছেন নানা অনিয়মে। জনপ্রতিনিধিহীন নগরী এখন বেহাল দশায় পরিণত।
রাজধানীর নিকটবর্তী গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আয়তন ৩২৯ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার। ৫৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত দেশের সর্ববৃহৎ গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রায় ৬৫ লাখ লোকের বসবাস। এই এলাকার মানুষ পাচ্ছে না নাগরিক সুবিধা। ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নেই রাস্তা, নেই সংস্কার, নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য টঙ্গীর শিলমুন, মরকুন, দত্তপাড়া, আরিচপুর, মুদাফা, মিরেরবাজার, গাজীপুরা, পূবাইল, বড়বাড়ি, গাছা, বাসন, সালনা, জয়দেবপুর, কাশেমপুর, কোনাবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনো নেই কোনো রাস্তা, নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগে দিন কাটছে এলাকাবাসীর। এ বিষয়ে টঙ্গী ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর দত্তপাড়া টেকবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শওকত আলী বলেন, এ এলাকায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করে আসছি। একটি রাস্তার অভাবে কী যে কষ্ট তা বলে বোঝানোর উপায় নেই। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে বাসায় আসতে হয়। সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড টেকবাড়ি-থেকে গাজীপুর সংযোগ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করা।
ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, ৫০ নম্বর ওয়ার্ড টেকবাড়ি- থেকে গাজীপুর সংযোগ রাস্তাটি ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই রাস্তার কিছু অংশ মাটি ফেলে বাকি কাজের হদিস নেই। অথচ কাগজপত্রে সম্পূর্ণ কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। এমন চিত্র বিভিন্ন ওর্য়াড়ে। এলাকাবাসী মনে করছে, স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর আবু বক্কর ও সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ রাস্তা না করেই বিল তুলে নেন। টঙ্গী বিসিক এলাকার এক কারখানা মালিক মহিউদ্দিন শেখ বলেন, টঙ্গী বিসিক এলাকায় ছোট বড় শতাধিক কারখানা রয়েছে। আমরা বিসিক কর্তৃপক্ষকে টেক্স দেই আবার সিটি করপোরেশনকেও লাখ লাখ টাকা টেক্স দেই। অথচ গাজীপুর সিটি করপোরেশন থেকে রাস্তা, পানি, বিদ্যুৎসহ কোনো সুবিধাই পাচ্ছি না। ৫০ নম্বর ওয়ার্ড টেকবাড়ি-থেকে গাজীপুর সংযোগ রাস্তার কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে গেলে টঙ্গী জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ বলেন, কোনো কিছু জানতে চাইলে, তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন, পরে আমরা ফাইল দেখে সব তথ্য দেব। এখন কিছু বলা যাবে না।