চট্টগ্রাম নগরের ঈদগাহ কাঁচা রাস্তার মাথার বাসিন্দা রিকশাচালক জামালউদ্দিন তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। আছে ডায়াবেটিসও। সরকারি হাসপাতাল দূরে। প্রাইভেটে চিকিৎসা করাবেন এমন সাধ্যও নেই। পরে তিনি গেলেন আলহাজ মোস্তফা-হাকিম ডায়াবেটিক ও দাতব্য চিকিৎসালয়ে। সেখানে চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয় করেন নামমাত্র মূল্যে। সুস্থ হয়ে ওঠেন। নিয়মিত ডায়াবেটিসের চিকিৎসাও করান এখান থেকে। জামালউদ্দিনের মতো গরিব, খেটে খাওয়া মানুষ কেউ বিনামূল্যে, কেউ নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন এ চিকিৎসালয় থেকে। সেবাকেন্দ্রটি পরিচালনা করছে আলহাজ মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন।
জামালউদ্দিন বলেন, জ্বরে ভুগছিলাম। চিকিৎসার মতো টাকাও ছিল না। পরে মোস্তফা-হাকিম ডায়াবেটিক ও দাতব্য চিকিৎসালয়ে গিয়ে চিকিৎসা করে এখন সুস্থ হলাম। আলহাজ মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭৭ সালে। পরে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠা হয় আলহাজ হোসনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশন দুটি বছরজুড়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক অধিকার এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত করে। আলহাজ মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ারের পরিচালক সরওয়ার আলম বলেন, সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুয়ের জীবন মান উন্নয়ন, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মৌলিক অধিকার পূরণে কাজ করে। ফাউন্ডেশন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, মসজিদ, মাদরাসা, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশান, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, রাস্তাঘাট, সেতু এবং কালভাট নির্মাণের মতো প্রায় ১০২টি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে।
মোস্তফা-হাকিম ডায়াবেটিক ও দাতব্য চিকিৎসালয়ে স্বল্প ও দুস্থ মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। সেখানে আছে প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুলভ আধুনিক ব্যবস্থা। এ কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে গড়ে সহস্রাধিক রোগী চিকিৎসা নেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা মেডিসিন, শিশু রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, চর্ম ও যৌন, হরমোনজনিত সমস্যা, লিভার ও ইনফেকশন রোগের পরামর্শ ও চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
দেশের জাতীয় ও বিশেষ দিনগুলোতে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় এ দাতব্য চিকিৎসালয়ে। অন্যদিকে, ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার রোডের আজম নগরে ফাউন্ডেশনের পরিচালিত ‘সৈয়দা মোশাররফজান বেগম (রাহ.) ডায়াবেটিক ও দাতব্য চিকিৎসালয়’ থেকে গরিব-অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে সেবা ও ওষুধ দিয়ে থাকে। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০-৭০ জন রোগী সেবা নিয়ে থাকে। সেখানে ১৯৯৯ সালে মোস্তফা হাকিম সিটি করপোরেশন মাতৃসদন হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিবছর লক্ষাধিক মানুষ এ দাতব্য চিকিৎসালয় থেকে সেবা পাচ্ছে।