এখন আর শুধু মণিপুরি নয়, ত্রিপুরা নারীরাও বুনন করবেন মণিপুরি তাঁত। এজন্য ত্রিপুরা নারীদের দেওয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। এতে শুধু ত্রিপুরা নারীদের কর্মসংস্থান নয়, ঐতিহ্য হারাতে বসা মণিপুরি তাঁতশিল্পের প্রসারও ঘটবে। এ মাসের শুরুর দিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের (এসএমই) আয়োজনে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত ডলুবাড়ী গ্রামে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়। গ্রামের প্রায় ৩০ জন ত্রিপুরা নারী মণিপুরি তাঁত বুনন শিখেছেন। প্রশিক্ষকরা জানান, মূলত ঐতিহ্যবাহী মণিপুরি তাঁতশিল্প সংরক্ষণ ও নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এই প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশিক্ষকরা হাতেকলমে ত্রিপুরা নারীদের মণিপুরি তাঁতের বুনন শিখিয়ে দিচ্ছেন। ত্রিপুরা নারীরাও খুব আগ্রহ
নিয়ে তা শিখছেন। কেউ সুতা বাছাই করছেন, কেউ হাতে ও চরকির সাহায্যে রিলে সুতা পেঁচাচ্ছেন। কেউ তাঁতে সুতা লাগাচ্ছেন। সেই তাঁত দিয়ে কেউ বানাচ্ছেন শাড়ি, কেউ চাদর, কেউবা গামছা, মাফলার ইত্যাদি। কয়েক দিনের প্রশিক্ষণে তাঁরা মোটামুটি নিজেরাই এখন শাড়ি বুনতে পারছেন। এ কাজ শিখে তাঁরা বাণিজ্যিকভাবে পণ্য তৈরি করে বিক্রয় করবেন বলেন জানান। প্রশিক্ষক সালেহা বেগম বলেন, ‘ত্রিপুরা নারীদের কয়েকজন তাঁতের কিছু কিছু কাজ করতে পারতেন। এখন আমরা সুতা থেকে শাড়ি তৈরির সব কৌশল বুঝিয়ে দিচ্ছি। তাঁরাও খুব আগ্রহ নিয়ে সেটা শিখছে। দ্রুতই শাড়ি বুননের কৌশল রপ্ত করতে পারছেন।’ প্রশিক্ষণার্থী মেরি চিমুই ত্রিপুরা, মন্দিরা দেববর্মা ও বিনতা দেববর্মা বলেন, ‘আমরা সুতা গুছানো, তাতে সুতা লাগানো, শাড়ি বুননের কৌশল শিখেছি। এখনো পুরোপুরি দক্ষ না হলেও অনেক কিছুই নিজে নিজে করতে পারছি। শাড়ি, মাফলার, চাদর বুনতে পারি। প্রশিক্ষণ শেষে আমরা বাসায় পণ্য তৈরি করে বাড়তি টাকা উপার্জন করতে পারব। আমাদের ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন দেখছি এ কাজ শিখে।’ এসএমই ফাউন্ডেশনের কো-অর্ডিনেটর মো. রবিউল ইসলাম রাসেল বলেন, ‘মণিপুরি তাঁতশিল্প বাংলাদেশের একটি সমৃদ্ধ ঐতিহ্য। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্প কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তাই এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা পরে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজস্ব তাঁতশিল্প ব্যবসা গড়ে তুলতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। এ ছাড়াও মণিপুরি তাঁতশিল্প নতুনভাবে বিকশিত হবে এ উদ্যোগের মাধ্যমে। কয়েক দিনের প্রশিক্ষণে ত্রিপুরার নারীরা নিজেরাই এখন শাড়ি বুনতে পারছেন। আমরা আশা করি, প্রশিক্ষণ শেষে তারা বাণিজ্যিকভাবে পণ্যগুলো তৈরি করে বিক্রি করবেন ও উদ্যোক্তা হিসেবে নতুন জীবন শুরু করবেন।’