টাঙ্গাইলে মানসিক ভারসাম্যহীনদের নিয়ে সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহেরের বাসা দখল, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার নারী সমন্বয়ককে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম মাহবুব খান নারী সমন্বয়ক ও ছাত্র প্রতিনিধি মারিয়াম মোকাদ্দেস মিষ্টির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রবিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে টাঙ্গাইল শহর থেকে মারইয়াম মোকাদ্দেস মিষ্টিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মিষ্টি বাসাইল উপজেলার জশিহাটী গ্রামের শাহ আলমাসের স্ত্রী। তিনি বর্তমানে টাঙ্গাইল শহরের পশ্চিম আকুরটাকুর পাড়ায় বসবাস করছেন। এ ঘটনায় রবিবার রাতে সাবেক এমপির স্ত্রী রওশন আরা খান বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় মিষ্টিকে এক নম্বর এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলায় তিনি ১০ কোটি টাকা চাঁদার দাবি এবং বাড়িতে প্রবেশ করে ৫ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এদিকে রবিবার রাত ১১টার দিকে যে ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীনকে নিয়ে বাসা দখল করেন তাদের ময়মনসিংহ ও গাজীপুরের সরকারি আশ্রমে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে জোয়াহেরুল ইসলামের বাসার তালা ভেঙে ১৭ জন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে নিয়ে ভবনে প্রবেশ করেন ছাত্র প্রতিনিধি ও সমন্বয়ক মারইয়াম মোকাদ্দেস মিস্টি। সেখানে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনদের জন্য আশ্রম বানানোর ঘোষণা দেন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এতে নড়চড়ে বসে প্রশাসন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে বাড়িটি দখলমুক্ত করে। পরে মুচলেকা নিয়ে রাতেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এদিকে জুলাই আন্দোলন চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সমন্বয়ক হিসেবে মিষ্টির নাম থাকলেও ওই কমিটি বাতিল করা হয়। পরে টাঙ্গাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেখানে জায়গা হয়নি মিষ্টির।