দিগন্ত মাঠজুড়ে কেবলই সাদা ফুলের সমাহার। দূর থেকে দেখলে মনে হয় সাদা চাদর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে মাঠে। কাছে এলে দেখা মিলবে সারি সারি পিঁয়াজের ফুল। ফরিদপুর জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খায় কালো সোনা খ্যাত পিঁয়াজের ফুল। এ বছর জেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আবাদ হয়েছে পিঁয়াজ বীজের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পিঁয়াজ বীজের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। এ বছর ফরিদপুর জেলায় ৯৬৫ মেট্রিক টন পিঁয়াজ বীজ উৎপাদনের আশা করছে কৃষকরা। যার বাজার মূল্য ৪০০ কোটি টাকা।
দেশে পিঁয়াজ বীজ উৎপাদনের অন্যতম জেলা ফরিদপুর। পিঁয়াজ বীজের সিংহভাগ উৎপাদন হয় এ জেলায়। তাছাড়া উৎকৃষ্টমানের হওয়ায় কৃষকদের কাছে এর চাহিদাও বেশি। যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে পিঁয়াজ বীজ উৎপাদন। কৃষি বিভাগের সূত্র মতে, এ বছর ফরিদপুর জেলায় পিঁয়াজ বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮২০ হেক্টর জমি। আবাদ হয়েছে আরও বেশি জমিতে। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে সদর উপজেলার অম্বিকাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে।
পিঁয়াজ বীজ উৎপাদনে সেরা কিষানি সাহেদা বেগম জানান, তিনি একযুগ ধরে পিঁয়াজ বীজ উৎপাদন করছেন। এর আবাদ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল। অনেক কৃষক এটি আবাদে ঝুঁকি নিতে চান না। এ বছর তিনি ১০০ একর জমিতে বীজ আবাদ করেছেন। যা থেকে ৩০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদনের আশা করছেন।
চাষি বক্তার হোসেন খান জানান, দেশের অন্য এলাকা থেকে ফরিদপুরের বীজের গুণগত মান বেশ ভালো। এখানকার বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভারত থেকে নিম্নমানের বীজ এনে বাজারে সরবরাহ করে থাকে। ফলে অনেক কৃষক প্রতারিত হন। আরেক চাষি বারী চৌধুরী বলেন, এ বছর পিঁয়াজ বীজের ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া এমন থাকলে তারা এবার লাভবান হবেন।
পিঁয়াজ বীজ আবাদের অন্যতম এলাকা গোবিন্দপুরের সাহিদা বেগমের খামারে দেখা যায়, অর্ধ শতাধিক পুরুষ-মহিলা পিঁয়াজ বীজ পরাগায়নে কাজ করছেন। ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ মৌসুমে বীজ উৎপাদনে গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।