রাজধানীতে সেবাদাতা সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতায় বছরজুড়েই মহাসড়ক থেকে অলিগলিতে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। কখনো পয়ঃনিষ্কাশনের পাইপ বসানোর জন্য, কখনো বিদ্যুতের লাইন আবার কখনো পানির লাইন বসানোর জন্য কাটা হচ্ছে সড়ক। আর উন্নয়নের নামে এসব খোঁড়াখুঁড়িতে যানজটে পড়তে হয় নগরবাসীকে। আর সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সমন্বয়হীনতার বলি হচ্ছে নগরজীবন।
মেট্রোরেল প্রকল্পের জন্য খোঁড়া হচ্ছে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক। এই প্রকল্পের আওতায় এমআরটি লাইন-১ এর রুটের জন্য সড়কের নিচ থেকে ইউটিলিটি সার্ভিস শনাক্ত ও অপসারণের কাজ চলছে। ফলে নতুন বাজার, বাড্ডা, নর্দা, কুড়িল, জোয়ারসাহারা, খিলক্ষেত হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে খোঁড়া হয়েছে। এতে করে প্রতিনিয়ত এই সড়কে যানজটে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
এ ছাড়া পাতাল ও উড়াল সমন্বয়ে এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের কাজও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। এজন্য গুলশান-২ (গোল চত্বর) মেট্রো স্টেশন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। গত ২৬ জানুয়ারি এই নির্দেশনা দেন নর্দান রুটের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক (সিভিল, আন্ডারগ্রাউন্ড) ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রজেক্টের খোঁড়াখুঁড়ির কাজের জন্য গুলশান-২ এলাকায় যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য আমরা এই পথে চলাচলকারী যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছি, যেন তারা গুলশান-২ এলাকা এড়িয়ে চলেন। আগামী তিন মাসের মতো এই এলাকায় কাজ চলবে। ফলে এ সময়টুকু এই জায়গা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন এলাকায়ও চলছে উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ি। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার মুগদা বিশ্বরোড থেকে মান্ডা ব্রিজ পর্যন্ত আধা কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার কাজ করা হচ্ছে তিন মাসের বেশি সময় ধরে। সড়কে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই পথে চলাচল করতে গিয়ে ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও। দেখা গেছে, খোঁড়া সড়কের পাশেই রাখা হয়েছে মাটি, পাইপ, মাটি খোঁড়ার এক্সকেভেটরসহ ছোট-বড় নির্মাণসামগ্রী। কোনো ধরনের যানবাহন চলার সুযোগ নেই। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে পাড়ি দিয়ে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা লেগুনায় চড়তে হচ্ছে।
উন্নয়নের নামে দীর্ঘ সময় ধরে এই খোঁড়াখুঁড়ি এবং কাজের ধীরগতি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের একজন আবদুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গত তিন মাস ধরে সড়কটি কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এ কারণে আমাদের চলাফেরা করতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কোনো যানবাহন চলাচলেরও সুযোগ নেই। বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতেও অনেক কষ্ট হয়। সিটি করপোরেশন যাতে দ্রুত কাজ শেষ করে সেদিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।
এ ছাড়া মালিবাগ থেকে মগবাজার পর্যন্ত সড়কটি সার্বক্ষণিক ব্যস্ত থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে মৌচাক থেকে মগবাজার যাওয়ার পথে সড়কের বাম পাশে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছে। ফলে সড়কের এই অংশে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। দয়াগঞ্জ সিটি করপোরেশন মার্কেট থেকে জনপথ মোড় বাস স্টপ পর্যন্ত ভায়া ঢাকা-সিলেট হাইওয়ে সড়কে এইচডিডি পদ্ধতিতে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল স্থাপনের জন্য সম্প্রতি এই সড়ক কাটে বাহন লিমিটেড নামে একটি সংস্থা।
জানা গেছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার ও স্যুয়ারেজ লাইন মেরামতসহ বিভিন্ন কাজের জন্য আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মার্চে ৪০টি সংস্থাকে সড়ক খননের অনুমতি দেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বিভিন্ন কারণে ১৮টি সড়ক খোঁড়া হয়নি। তবে ২২টি সড়কে কাটাকাটি করা হয়। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন দক্ষিণখান, উত্তরখান, মিরপুর, মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং স্যুয়ারেজ লাইন ও সড়ক মেরামতের কাজ চলছে।