জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মতামত জানার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সিপিবি। তারা জানিয়েছে, ‘¯েপ্রড শিট’ এ অধিকাংশ প্রশ্নই অস্বচ্ছ, অসম্পূর্ণ, একপেশে ও ব্যাখ্যার দাবি করে। এমতাবস্থায় সেসব বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা ব্যতিরেকে এসব প্রশ্নের বিষয়ে টিক চিহ্ন দিয়ে মতামত দেওয়া সম্ভব কিংবা যথাযথ হবে বলে দলটি মনে করছে না। গতকাল জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপ শেষে দলটির পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ছাড়াও কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, বদিউল আলম মজুদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, সম্পাদক ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আসলাম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সিপিবি নেতারা জানান, সংস্কারের যে প্রস্তাবগুলো আমরা পেয়েছি তার প্রস্তাবনাগুলোর অনেক বিষয়ে আমরা একমত হলেও কোনো কোনো বিষয়ে, এমনকি মৌলিক কতিপয় বিষয়ে, আমাদের দ্বিমত ও আপত্তি আছে। ভিন্নমত আছে। আমাদের বিকল্প অথবা নতুন প্রস্তাবও আমাদের আছে। এসব নিয়ে সামনাসামনি আলোচনায় আমরা বক্তব্য তুলে ধরব।
লিখিত বক্তব্যে সিপিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৪-এর অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশবাসীর সামনে ব্যাপক, বিস্তৃত ও গভীর সংস্কারের মাধ্যমে দেশের রুগ্ণ অবস্থা নিরসনের পথে এগিয়ে যাওয়ার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, জনগণকে সম্পৃক্ত করেই সেই সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে। তাই, জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করেই এই পথে এগোতে হবে। যে যে ধরনের মৌলিক সংস্কার আজ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, একমাত্র আপামর জনগণই তার প্রকৃত কারিগর হতে পারে। তাই ব্যাপক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জনগণকে সংস্কার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করে এবং জনগণের মতামতকে ভিত্তি করেই আমাদের এ কাজ সম্পন্ন করতে হবে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সিপিবি সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার করে সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য কাজ করে চলেছে। বক্তব্যে আরও বলা হয়, নির্বাচন যাতে প্রকৃতই অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য নির্বাচনের আগে এখনই সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জরুরিভাবে দেশের নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার সাধন করতে হবে। অপরাপর বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আমরা এ সময়ে সংলাপের মাধ্যমে ঐকমত্যে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা নিয়ে, ওইসব তথ্য-উপাত্ত নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করতে পারব। এই কাজ করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলে তারাই জনগণের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ অগ্রসর করবে। এ ছাড়া জনগণের ওপরই এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভার ছেড়ে দিতে হবে।