এমভি সেভেন সিজ-৪ নামে একটি কার্গো জাহাজ ৮৫০ টন ইউরিয়া সার নিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি যশোরের অভয়নগর উপজেলার ভৈরব নদের শুভরাড়া খেয়াঘাটে নোঙর করে। ৯ ফেব্রুয়ারি কার্গোটির তলদেশ ফেটে গেলে ৮৫০ টন সার নিয়ে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) এ সার আমদানি করেছিল। তা পরিবহনে ঠিকাদার ছিল ঢাকার সামিট অ্যাসোসিয়েটস। গত দেড় বছরে এভাবে অন্তত ১৫টি পণ্যবোঝাই কার্গো যশোরের নওয়াপাড়া বন্দরে ভৈরব নদে ডুবে গেছে। প্রায় সব দুর্ঘটনাই কার্গোর তলদেশ ফেটে যাওয়ার কারণে হয়। নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজালাল বলেন, পুরনো এবং ফিটনেস না থাকা কার্গোতে ধারণক্ষমতার বেশি পণ্য পরিবহন করার কারণেই বারবার এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। ভাটার সময় এসব কার্গো চরে আটকে যায়। তখন পণ্যের চাপ কার্গো সহ্য করতে পারে না, তলদেশ ফেটে যায়। নওয়াপাড়া নৌ বন্দরের উপপরিচালক মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, কার্গো মালিকরা এ দুর্ঘটনার জন্য ভৈরব নদের নাব্য না থাকার বিষয়টি বারবার বলেন। কিন্তু নাব্যর কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা হওয়ার কথা না। সব ঘাট একই রকমের। সেখানে প্রতিদিনই বহু কার্গো থাকে। সবগুলোরই তো তলা ফেটে যাওয়ার কথা। কিন্তু তা তো হচ্ছে না। তাছাড়া যখন যেখানে নাব্য সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, বন্দর কর্তৃপক্ষ এক্সকেভেটর দিয়ে খনন করছে। তিনি বলেন, যেসব কার্গো দীর্ঘদিন ডক করা হয় না, প্লেট পরিবর্তন করা হয় না, সেগুলো খুবই নাজুক অবস্থায় থাকে। তার ওপর ওভারলোড দেওয়া হলে ভাটার সময় লোড নিতে না পেরে তলদেশ ফেটে যায়। তিনি বলেন, ভৈরব নদ এমনিতেই সরু। আমদানিকারকরা ১০-১২টি কার্গো একসঙ্গে নিয়ে চলে আসেন। দুই-তিনটি কার্গোর পণ্য আনলোড হতে থাকে, বাকিগুলো দিনের পর দিন ভৈরবের সরু চ্যানেলে নোঙর করে থাকে।
খুলনা নৌপরিবহন মালিক সমিতির সাবেক যুগ্মসম্পাদক হাফিজ চন্দন বলেন, দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেস না থাকার যে বিষয়টি বলা হচ্ছে, তা সত্য নয়। তিনি বলেন, ভৈরব নদের নওয়াপাড়া বন্দর অংশের চ্যানেল সরু হয়ে গেছে। নদের তলদেশ অসমান। সে কারণেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, কার্গো জাহাজের ফিটনেসের ব্যাপারে সরকার যেভাবে তৎপর তাতে কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন কার্গো পানিতে নামতে পারে না। এক বছর পরপর ফিটনেস সার্ভে করা হয়।
একেকটি কার্গোর দাম দেড় থেকে দুই কোটি টাকা, বড়গুলোর দাম আরও বেশি। দুর্ঘটনা ঘটলে কার্গো তো ধ্বংস হয়, সঙ্গে পণ্যের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। ফিটনেস ছাড়া কার্গো নামিয়ে ব্যবসায়ীরা কখনই এত বড়ো রিস্ক নেবেন না। বারবার বিআইডব্লিউটিএকে ভৈরব নদ সুষমভাবে ড্রেজিংয়ের জন্য বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।