গাজীপুরে সড়ক ও মহাসড়কে এখন গলার কাঁটা তিন চাকার যান, ব্যাটারিচালিত অটো ও ইজিবাইক। এসব অবৈধ অটো রিকশা আর ইজিবাইকের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নগরজুড়ে অবাধে তৈরি হচ্ছে এসব গাড়ি। একটি চক্র এসব গাড়ি তৈরি করে হয়েছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। বর্তমানে সড়ক ও মহাসড়কের গলার কাঁটা তিন চাকার অটোরিকশার বিরুদ্ধে নেই কোনো সরকারি পদক্ষেপ। এসব অবৈধ গাড়ির চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই সিটি করপোরেশনের অনুমতি। যে কারণে বাড়ছে অদক্ষ চালক। ছোট ছোট শিশুরাও ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছে। এতে সড়কে ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা।
সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, সড়কের যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং করে যানজট সৃষ্টি করছে এসব যান। গাজীপুরে অটোরিকশা ও ইজিবাইকের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। সড়কে অন্যান্য গাড়ির চেয়ে এখন অটোরিকশা আর ইজিবাইকের সংখ্যা বেশি। ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। অবৈধ গাড়ি তৈরির অসাধু মালিক ও চালকরা কোনো নিয়ম মানছে না। এমনকি রাতে অটোরিকশা দিয়ে হচ্ছে ছিনতাই। এসব গাড়ির চালকরা পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে চালক সেজে ছিনতাই করে মানুষের সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। সম্প্রতি টঙ্গীর শিলমুন এলাকায় অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজনের মৃত্যু হয়। গত ২২ মার্চ নগরীর মাজুখান এলাকায় লরির ধাক্কায় হানিফ মিয়া ও সাব্বির মিয়ার মৃত্যু হয়। এমন চিত্র নগরজুড়ে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব গাড়ির স্ট্যান্ড।
এ বিষয়ে গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) জাফর বলেন, এসব গাড়ি সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে। এসব গাড়ির গতি অন্যান্য গাড়ির তুলনায় কম, ফলে সড়কে এমনিতে জ্যাম লাগে। আমরা প্রতিদিন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ডাম্পিং পয়েন্ট উত্তর ও দক্ষিণ এলাকায় প্রতিদিন প্রায় এক শ গাড়ি ডাম্পিং করছি, সেই সঙ্গে অনেক গাড়ির রেকার বিল করা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ও যানজট কমাতে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, এটা নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।