প্রায় ১১ বছর পর দেশে আসছেন ইংলিশ ফুটবলার হামজা চৌধুরী। তবে এবারের আসাটা অন্যবারের মতো নয়, এবার তিনি আসছেন দেশের হয়ে ফুটবল ভক্তদের মাতাতে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হবে হামজা দেওয়ান চৌধুরীর। হামজা চৌধুরী দেশের আসার পর একদিনের জন্য আসবেন তার নিজ গ্রাম হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার ¯œানঘাট গ্রামে। যেখানে জড়িয়ে আছে তার শৈশবের নানা স্মৃতি। ঘুরে বেড়াবেন তার নিজ পৈতৃক ভিটায়।
এদিকে হামজা চৌধুরীর আগমনকে ঘিরে তার নিজ গ্রাম ¯œানঘাটসহ পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ¯œানঘাটের আাঁকাবাঁকা মেঠো পথ সাজানো হয়েছে ব্যানার, ফেন্টুন আর তোরণ দিয়ে। যেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে হামজা চৌধুরীর ছবি সংবলিত নানা দিক। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাকে অভিনন্দন বার্তা দিয়ে তোরণ দেওয়া হয়েছে। আজ সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা তার। সেখান থেকে সড়ক পথে আসবে নিজ বাড়িতে। তার সঙ্গে থাকবেন মা, ভাই, স্ত্রী ও তিন সন্তান। বাবা দেওয়ান মুর্শেদ চৌধুরী চলে এসেছেন আগেই। হামজার আগমনকে ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করছে বাফুফে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হামজা চৌধুরীর আগমনকে ঘিরে আনন্দে মাতোয়ারা তারা। ঘরের ছেলেকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছেন প্রতিবেশীসহ পুরো গ্রামবাসী। তারা বলেন, হামজা চৌধুরী আমাদের গর্ব। সে দেশের হয়ে খেলবে এটা অত্যন্ত গর্বের। দেশের হয়ে হামজা ভালো কিছু উপহার দিক সেটাই আমরা চাই। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এর আগেও বেশ কয়েকবার হামজা বাড়িতে এসেছে। সে খুব ভালো মনের মানুষ। এদিকে ঘরের ছেলেকে বরণ করে নিতে তার নিজ গ্রামে সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে। গ্রামবাসী বলছেন, আমরা আমাদের ছেলেকে যথাযথ সম্মান দিয়ে ঘরে নিয়ে যাব।
আবদুল আজিজ নামে এক ব্যক্তি বলেন, ফুটবলের জন্য হামজা হতে পারে আমাদের তরুণদের জন্য বড় আইকন। তার থেকে অনেকে ফুটবলের প্রতি অনুপ্রেরণা নিতে পারে। তাই এলাকার তরুণরা তাকে বরণ করে নিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তারা সবাই হামজার আসার খবরে আনন্দিত।
হামজার বাবা দেওয়ান মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, ছোট থেকেই দেশের প্রতি অন্যরকম টান ছিল হামজার। দেশকে সে খুব ভালোবাসে। তিনি বলেন, হামজার মতো বিদেশে খেলা অন্য খেলোয়াড়রা যদি দেশের হয়ে খেলতে আসে এবং তাদের ট্রেনিংসহ পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা পায় তাহলে আগামী ২০৩০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলার সম্ভাবনা থাকবে।