আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মিলছে না। অনেকটা নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। কয়েক বছর ধরেই মূল্যস্ফীতির তুলনায় মজুরি বৃদ্ধির হার কমছে। ফলে শুধু বিত্তহীন বা নিম্নবিত্ত নয়, মধ্যবিত্ত শ্রেণিরও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন মজুরিহারের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি থাকে, তখন মানুষের প্রকৃত আয় কমতে থাকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী গত মাসে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ যে হারে মূল্যস্ফীতি হয়েছে, মজুরি বেড়েছে তার তুলনায় কম। এ প্রক্রিয়ায় একজন শ্রমজীবী বা চাকরিজীবী আগের বছর যে বেতন পেয়েছেন, মজুরিহার মূল্যস্ফীতির নিচে থাকায়, তার প্রকৃত আয় সেই একই বেতনের তুলনায় কমে গেছে। বাড়তি মূল্যস্ফীতির কারণে সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাতে হচ্ছে। এতে ক্রয়ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে গেছে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের। টিসিবির ট্রাকের পেছনে সেজন্যই মানুষের দীর্ঘ লাইন নিত্যদিনের ঘটনা। অর্থনীতির এ জটিল সমীকরণ পর্যালোচনা করে এক গবেষণা সংস্থা বলেছে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। আরও অসংখ্য মানুষ দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে। বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে, টিসিবি সারা দেশে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির ট্রাকের সংখ্যা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছে। টিসিবির নিজস্ব ডিলারে খাদ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে চালও বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এসব নেহাত অপ্রতুল। আর তা সংকটের প্রকৃত সমাধানও নয়। প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ন্যায্য মজুরি নির্ধারণের মাধ্যমে জনগণের আয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি, গতিশীল সরবরাহ এবং সুষ্ঠু বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জিনিসপত্রের দাম কমাতে হবে। নিত্যপণ্যের মূল্য সাধারণের ক্রয়সীমার মধ্যে রাখা সরকারের কর্তব্য; তা যত বড় চ্যালেঞ্জই হোক। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে, কর্মক্ষেত্রে শ্রমমূল্য বাড়িয়ে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে এ চ্যালেঞ্জ জিততে হবে। তার জন্য যা করার, তা কঠোর পদক্ষেপে করুন। তাতে আপামর জনসাধারণের সর্বাত্মক সমর্থন রয়েছে।