স্বৈরশাসনের দেড় দশকে পুলিশকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে এ বিশাল বাহিনীর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি স্বৈরাচার টিকিয়ে রাখতে অন্যায় ভূমিকা পালন করা বেশ কজন শীর্ষ কর্মকর্তা মহাদুর্নীতির মাধ্যমে যে পাহাড়সম সম্পদ অর্জন করেন, তাতেও পুলিশের সততার মর্যাদা মাটিতে মিশে যায়। সবশেষ গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে পুলিশকে যে ভূমিকা পালন করতে হয়, তা ‘জনগণের বন্ধু’কে ভিলেনে পরিণত করে। ফলে সরকার পতনের পর কার্যত নিষ্ক্রিয় ও নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে পুলিশ। তাদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে হয় সেনাবাহিনীকে। কিন্তু এ যে কোনো দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নয়, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সেটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সুষ্ঠু অবস্থা রক্ষা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত যখন সামনেই জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে, পুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শতভাগ নিরপেক্ষ থাকার স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, কোনো সংগঠন বা দলের প্রতি অনুরাগ নয়। শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পরিস্থিতি। সোমবার বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, পুলিশকে অবহেলা করে বা পাশ কাটিয়ে দেশ গড়া যাবে না। তারাই সম্মুখসারির মানুষ। পুলিশ মানে আইনশৃঙ্খলা। আর সমাজে আইনশৃঙ্খলা না থাকলে যত বড় চিন্তাই হোক, যত টাকাই থাক, কাজে আসবে না। তিনি রাখঢাক না রেখেই বলেন, জাতি যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছে। পরাজিত শক্তি নানাভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। মূলত পেশাদারি দৃঢ়তায় ফিরতে হবে পুলিশকে। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আঠারো কোটি মানুষের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল, যানবাহন, প্রযুক্তি ও সুযোগসুবিধা নিয়েই বৈষম্যমুক্ত সুখী, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ নতুন বাংলাদেশ গড়তে পুলিশকে জনগণের পাশে থাকতে হবে। প্রমাণ করতে হবে পুলিশ খারাপ নয়, খারাপ মানুষের খপ্পরে পড়েছিল। এসব স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। আশা করি পুলিশ সাহস, প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা পেয়েছে। অন্যদিকে নিজেদের স্বার্থেই, পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা যে জনসাধারণের কর্তব্য, সেটাও তাদের বুঝতে হবে।