জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার চক নয়াপাড়া গ্রামে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে চাষির পুকুরে বিষ ঢেলে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ নিধনের অভিযোগ ওঠেছে প্রতিবেশী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। রবিবার দিবাগত ভোররাতে ভুক্তভোগী আজিজুল হক লেফুর পুকুরে প্রতিবেশী ছানাউল হক ও তাজমুল মিলে এই ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে তিনি সোমবার বিকেলে কালাই থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ ও প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৫০ শতাংশ জলকরের একটিতে আজিজুল হক লেফু রুই, কাতলা, মৃগেল, পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের পোনা ছাড়েন। এ ছাড়া পোনা মাছগুলো পালনের জন্য আরো ২০ হাজার টাকার খাদ্য ও ঔষুধ প্রয়োগ করেন। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার মত ব্যয় হয়েছে পুকুরটিতে। বর্তমানে মাছগুলোর ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত। এরইমধ্যে পুকুর পাড় হয়ে চলাচলের একটি রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল প্রতিবেশী মৃত মোফাজ্জল হোসেনের দুই ছেলে ছানাউল হক ও তাজমুলের সাথে। ওই রাস্তা নিয়ে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে গত ১২ ফেব্রুয়ারি কালাই থানায় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী আজিজুল হক। এরপর থেকে তারা দুই ভাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। রোববার দিবাগত ভোররাতে তারা দুই ভাই মিলে ভুক্তভোগীর পুকুরে বিষ মিশিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মাছ মেরে ফেলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর ছেলে সোহেল বলেন, ভোররাতে সেহরি খাওয়ার পর আমি পুকুর পাড়ে গিয়ে দেখি ছানাউল ও তাজমুল পুকুরের পানিতে বিষ ফেলে পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তারা আমাকে দেখে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। এরপর পুকুরের মাছগুলো খুব লাফালাফি শুরু করে। সকাল হতে হতে সব মাছগুলো মরে যায়।
পুকুরের মালিক আজিজুল হক বলেন, বিরোধ রাস্তা নিয়ে, তাহলে পুকুরে বিষ দেওয়ার কারণ কি ? বিনা অপরাধে কেন ওরা আমার পুকুরে বিষ দিয়ে মাছগুলো মেরে ফেরলো। আমি এর বিচার চাই।
অভিযুক্ত তাজমুল বলেন, রাস্তা নিয়ে বিরোধ আছে এটা সত্য, তবে বিষ দিয়ে মাছ মেরে ফেলার যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্যা। আমাদের দুই ভাইকে ফাঁসানোর জন্য এমন অভিযোগ করা হচ্ছে।
মাছ মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কালাই উপজেলা মৎস অফিসার তৌহিদা মহতামিম। তিনি বলেন, বিষ প্রয়োগ করেই মাছ নিধন করা হয়েছে।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বলেন, লোকমুখে মাছ নিধনের কথা শুনেছি। তবে কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনহত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল