লালমিনরহাট জেলার হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে মহাসড়কে আলু ফেলে আন্দোলন করেছেন প্রান্তিক চাষিরা।
শনিবার (১ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাজার সংলগ্ন মহাসড়কে এ প্রতিবাদ জানান আলু চাষিরা। এ সময লালমনিরহাট-রংপুর মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আশ্বাসে সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন চাষিরা।
এ সময় আন্দোলনরত আলু চাষিরা জানান, ২০২৪ সালে ৬০ কেজি এক বস্তা আলু সংরক্ষণে হিমাগারের ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা। কিন্তু চলতি বছরে হিমাগার কর্তৃপক্ষ কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই একই বস্তা আলুর ভাড়া ৪৮০ টাকা নির্ধারণ করায় প্রান্তিক কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। তারই প্রতিবাদে প্রান্তিক আলু চাষিরা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। বর্তমানে বাজারে আলুর কেজি ১০ টাকা। এই ১০ টাকার মধ্যে যদি ৮ টাকাই হিমাগার মালিক নিয়ে নেয় তাহলে কৃষকরা পাচ্ছেন মাত্র ২টাকা। তাতে করে সাধারণ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। আলু সংরক্ষণে হিমাগারের বাড়তি ভাড়া বাতিল করে পূর্বের ভাড়া বহাল রাখার দাবি জানান তারা।
কৃষক প্রতিনিধিরা আরও বলেন, চলতি মৌসুমে আলু উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে। এবার আলুর বীজ, সার, কীটনাশক কিনে উৎপাদন করতে গিয়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি খরচ পড়েছে। তার ওপর হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধি করায় কৃষকদের জন্য আলু সংরক্ষণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। এ যেন মরার উপর খরার ঘা।
এমনিতেই আলুর দাম কম, তার ওপর হিমাগারের ভাড়া অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে কৃষকদের সংকটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এতে করে প্রান্তিক চাষিরা মারাত্মকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন। যার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়বে। হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধি সরাসরি কৃষকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সামিল। যদি অবিলম্বে ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহার করা না হয়। তাহলে আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
দুপুর ২টার পর ঘটনাস্থলে পৌছান লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিজিৎ রায় ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরনবী। পরে ইউএনও'র আশ্বাসে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর আন্দোলনরত কৃষকরা সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরনবী জানান, আগামীকাল রবিবার বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক স্যারের কার্যালয়ে হিমাগার প্রতিনিধি ও কৃষকদের নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানেই বিষয়টির সমাধান হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন ইউএনও স্যার। পরে প্রান্তিক চাষিরা আশ্বাস পেলে তারা মহাসড়ক অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অভিজিৎ রায় জানান, উল্লেখিত বিষয়ে প্রান্তিক কৃষকদের সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় আন্দোলনরত কৃষকগণ সড়ক অবরোধ তুলে নেন। আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে উদ্ভুত বিষয়টি সমাধান করা হবে।
বিডি প্রতিনিধি/হিমেল