সব প্রবাসী যাতে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতি অধিক কার্যকর বলে মনে করছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেছেন, প্রবাসীদের ভোটের জন্য অনলাইন, পোস্টাল ব্যালট ও প্রক্সি ভোটিং পদ্ধতিকে বিবেচনা করা হচ্ছে। আমাদের এখন মন্দের ভালো খুঁজে বের করতে হবে। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে চাই, তাহলে কোনো না কোনো একটা অপশন বা সব অপশনের কম্বিনেশন আমাদের করতে হবে। গতকাল নির্বাচন ভবনে ওআইসিভুক্ত ১০ দেশের ১২ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আমাদের দেশে শারীরিক প্রতিবন্ধীরা আরেকজনের সহায়তা নিয়ে ভোট দিয়ে থাকেন। জমিজমাও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটটা বর্তমানে অকার্যকর। অনলাইন পদ্ধতি নিয়ে আজও তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মিসরের রাষ্ট্রদূত জানালেন, তাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়, তারা চালু করে অনলাইন ভোট বন্ধ করে দিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধি বলেছেন, তাদের প্রাথমিক অভিজ্ঞতা ভালো, পূর্ণাঙ্গভাবে অনলাইনে চালুর অবস্থানে নেই তারা।
আগামী এপ্রিলের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে ইসি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানান সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগী দেশ বা সংস্থার সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করা হচ্ছে, মতবিনিময় হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ওআইসিভুক্ত দেশের মিশনপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তারা এসেছিলেন, আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আমাদের বর্তমান কার্যক্রম, গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব কাজ হাতে নিয়েছি, সেসব অবহিত করেছি। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা আশা করেছি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য কোন পদ্ধতিতে ভোট নেওয়া যায়, সে সম্পর্কে ইসি মতামত জানতে চেয়েছিল সভায় অংশগ্রহণকারীদের কাছে। সানাউল্লাহ বলেন, প্রবাসী ভোটসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা তারা শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে কোনো কোনো রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার বিষয়ে তাদের আগ্রহ দেখিয়েছেন এবং পর্যবেক্ষক টিম পাঠানোর জন্য। আমরা স্বাগত জানিয়েছি এবং যথাসময়ে এগুলো ফরমালাইজ করব। এ নির্বাচন কমিশনার জানান, ইসির বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে আলজেরিয়া, ব্রুনাই, মিসর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, কুয়েত, মালয়েশিয়া, মরক্কো, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওথমান বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের বড় সংখ্যক প্রবাসী রয়েছেন। এ সরকারের অধীনে নির্বাচনি সংস্কারসহ সব সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করছে মালয়েশিয়া। আমরা অভিজ্ঞতা শেয়ারে আগ্রহী, বিশেষ করে বিদেশি কর্মীদের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের বিষয়ে।