বাংলাদেশ কারও তালুকদারি নয়, এ মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, আমরা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছি গণতন্ত্রের জন্য, কথা বলার জন্য, ভোটের অধিকারের জন্য। আজ যখন ভোটের সময় আসছে এখন বলেন, এটা না করলে ভোট হবে না, ওটা না করলে ভোট হবে না! গতকাল দুপুরে রাজধানীর শাহজাহানপুরে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব মাঠে বিএনপির প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নির্বাচন বিলম্ব নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিনের পরিচালনায় কর্মশালায় মহানগরী বিএনপির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। ‘রাষ্ট্রকাঠামোর মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ তো দেশটাকে বাপের তালুকদারি ভেবেছিল, যার কারণে যা খুশি তা-ই করেছে।
আপনারাও কি তা-ই ভাবেন? এই বাংলাদেশ কারও তালুকদারি নয়। এই বাংলাদেশ জনগণের। সুতরাং কথাবার্তা বলার সময় হিসাব করে বলবেন। যাতে আমাদের বেহিসাবি কথা বলতে না হয়।
নির্বাচনের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলোর নাম উল্লেখ না করে বিএনপির এই নেতা বলেন, যারা লম্বা লম্বা কথা বলেন-আজ নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না, করতে দেওয়া যাবে না। তারা বুকে হাত দিয়ে বলেন, এ জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে আপনাদের কজন নেতা-কর্মী শাহাদাতবরণ করেছেন? বিএনপির ৪২২ জন নেতা-কর্মী শাহাদাতবরণ করেছেন, শহীদ হয়েছেন এক মাসে। আপনাদের কজন হয়েছে?
মির্জা আব্বাস বলেন, অপকর্ম করে তারা, চাঁদাবাজি করে তারা, দুষ্কর্ম করে তারা, চাপিয়ে দেয় বিএনপির ওপর। এ চাঁদাবাজদের প্রতিরোধ করতে হবে, প্রতিহত করতে হবে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাহেব বারবার বলেছেন, যদি জনগণের মন থেকে উঠে যান, আওয়ামী লীগের যে পরিণতি হয়েছে তার চেয়ে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। অতএব সাবধান!
তিনি বলেন, আপনাদের সবার নামে না, দু-এক জনের নামে অভিযোগ আছে। আমার একটা এলাকায় ১০০ কর্মী আছে, দুইটা কর্মী হয়তো খারাপ কাজে জড়িত থাকতে পারে। আমার ৯৮ জন কর্মী তো খারাপ না। সুতরাং দুজন লোকের জন্য আমার সমস্ত কর্মী কালিমালিপ্ত হবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না। যদি কোনো চাঁদাবাজ ঢুকে পড়ে কিংবা আসে, তার মধ্যে অনেক চাঁদাবাজ কিন্তু আওয়ামী লীগের। ওই চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করেন। চিহ্নিত করে ওদের দল থেকে বের করে দেন অথবা পুলিশে সোপর্দ করেন।