চার দফা দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থীরা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা এ হুঁশিয়ারি দেন। ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদ এবং বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পড়ে শোনান সাধারণ ম্যাটস শিক্ষার্থী ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সমন্বয়ক মো. মুজাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, চার দফা দাবিতে ম্যাটস শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কিছু চিকিৎসক ‘উসকানি’ দিচ্ছেন। তাতে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের নিয়ে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ ছড়াচ্ছেন।
উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার এবং ডিএমএফ ডিগ্রিধারীদের সুনাম তাতে ‘ক্ষুণ্ন’ হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচার দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ডিএমএফদের অধিকার আদায়ের জন্য উচ্চ আদালতে একটি মামলা চলমান। এই মামলার রায়কে প্রভাবিত করতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কর্মবিরতি, সভা-সমাবেশ বিচার বিভাগের স্বাধীনতাবিরোধী এবং আদালত অবমাননার শামিল। আমরা এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা কারও বিরুদ্ধে নই, আমাদের যে দাবি তা আদালতেই মীমাংসা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ম্যাটস শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চলে আসা দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর হয়নি। এজন্য ম্যাটস শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন, সংগ্রাম করে আসছেন। গত ২২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সাত দিনের মধ্যে আমাদের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে তা পূরণ হয়নি। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় ৯ ফেব্রুয়ারি আমরা আবার রাস্তায় নামি। সে সময় তিন কর্মদিবসের মধ্যে আমাদের নিয়োগ সম্পাদন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এখনো তার কোনো বাস্তবায়ন হয়নি। যেহেতু মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তাই আমরা আবার কঠোর কর্মসূচির দিকে অগ্রসর হতে বাধ্য হব। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার দায়ভার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ অধিদপ্তরগুলোর ওপর বর্তাবে।