আজ অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশের চেতনায় শানিত অমর একুশে বইমেলার এই দিনটির জন্যই যত ধরনের অপেক্ষা ও প্রত্যাশা পাঠক, লেখক ও প্রকাশকদের। ২০ দিন ধরে আজকের দিনটির জন্যই প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিলেন প্রকাশকরা। গত কয়েক দিন যখন বিক্রি মন্দা ছিল তখন প্রকাশক ও লেখকদের সব স্বপ্ন এবং প্রত্যাশা ছিল একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে। একুশের শানিত চেতনায় ঋদ্ধ বইমেলায় আজ ঢল নামবে। স্টলে স্টলে ও প্যাভিলিয়নে প্যাভিলিয়নে বিক্রির দৃশ্য মেলায় সফলতার গল্প বুনবে এমন স্বপ্ন ও প্রত্যাশার কথা গতকাল অমর একুশে বইমেলার ২০তম দিনে জানিয়েছেন বেশির ভাগ প্রকাশক। প্রকাশনা সংস্থা পানকৌড়ির ব্যবস্থাপক এলাহী মাসুদ বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) একুশে ফেব্রুয়ারি। এদিনটির জন্য অপেক্ষায় আছি আমরা। একুশে বইমেলার জন্য পয়লা ফাল্গুন ও একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটার জন্যই সব প্রকাশকরা মুখিয়ে থাকেন।’ গতকাল মেলাজুড়ে লোকজনের আনাগোনা ছিল লক্ষ করার মতো। এদিনের বেচাকেনাও ছিল আশাব্যঞ্জক।
নতুন বই : মেলার ২০তম দিনে নতুন বই এসেছে ১১২টি। এর মধ্যে গল্পের বই ১৩টি, উপন্যাস ৮টি, প্রবন্ধ ২টি, কবিতার ২৭টি, গবেষণা ২টি, ছড়ার ৩টি, শিশুতোষ ৩টি, জীবনী ৩টি, রচনাবলি ৩টি, নাটকের ২টি, বিজ্ঞানের ২টি, ভ্রমণের ৩টি, ইতিহাসের ৩টি, চিকিৎসার ৩টি, ভাষার ৩টি, গণ অভ্যুত্থানের ১টি, ধর্মীয় ১টি, অনুবাদের ১টি, সায়েন্সফিকশনের ২টি ও অন্যান্য ২৭টি। গত ২০ দিনে মোট নতুন বই প্রকাশ হয়েছে ১ হাজার ৯০৫টি। সূচীপত্র প্রকাশ করেছে মোহাম্মদ আব্দুল হাই সম্পাদিত ‘বাঙালি মুসলমানের আত্ম অন্বেষণ’ শিরোনামের বই।
মূলমঞ্চ : বিকাল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘উপন্যাস, ঔপন্যাসিক ও রশীদ করীমের উপন্যাসবীক্ষা কয়েকটি প্রসঙ্গ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হামীম কামরুল হক। আলোচনায় অংশ নেন অনিরুদ্ধ কাহালি ও সাখাওয়াত টিপু। সভাপতিত্ব করেন সুব্রত বড়ুয়া।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি মো. সোলায়মান চৌধুরী, লেলিনা আক্তার, শাহীন রিজভী, মো. আশরাফুল হক, তাজ ইসলাম, আলতাফ হোসাইন রানা, চঞ্চল শাহরিয়ার, জুবায়ের আন নায়েম এবং আউয়াল খোন্দকার। আবৃত্তি করেন এস এম শাহনুর, এম এ কুদ্দুস, কামরুন নেসা চৌধুরী ও জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা।