তিন মাস আগে নান্দাইলে যোগ দিয়েছি। আগের কর্মস্থল ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায়ই বসুন্ধরা শুভসংঘের অনেক কাজে জড়িত ছিলাম। সেখানকার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মা-বাবাকে ডেকে এনে সবার সামনে পা ধুয়ে সম্মান দেখানোর ঘটনাটি ছিল অনুকরণীয়। এটি নৈতিক ও পারিবারিক শিক্ষা প্রদানের উত্কৃষ্ট উদাহরণ ছিল।
নান্দাইলে এসে বসুন্ধরা শুভসংঘের একই কর্মতৎপরতা দেখতে পেয়ে খুবই খুশি হয়েছি। এখানে তাদের পাশে থাকতে পারব ভেবে আমি অভিভূত। যত দূর জেনেছি, দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের সামাজিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ বিভিন্ন কার্যক্রম করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অসহায়দের জন্য ঘর নির্মাণ, বিনা সুদে ঋণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের প্রয়োজনীয় টাকা ছাড়াও বন্যার্তদের সাহায্য, শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ লক্ষণীয়।
অতিদরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠী এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এর মধ্যে বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ এবং প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম অন্যতম। ৯০ দিন হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ শেষে দেওয়া হয় সেলাই মেশিন। সরকারের সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বসুন্ধরা সব সময়ই জোরালো ভূমিকা রেখে চলছে।
তা ছাড়া মানবিক কাজে নিজেদের বিলীন করে দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ, যা ইতিহাসের পাতায় আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। অসহায় অতিদরিদ্র মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে তারা। অজপাড়াগাঁয়েও তাদের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বসুন্ধরা শুভসংঘের মাধ্যমে মানবিক কাজে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।
শিক্ষা খাতে বসুন্ধরা গ্রুপ ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। অর্থের অভাবে যেখানে লেখাপড়া প্রায় বন্ধের পথে বা বই-খাতাও দেখেনি, সেখানেই উপস্থিত হয়েছে তারা। নির্মাণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল, যে স্কুলে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে লেখাপড়া করার সুযোগ পাচ্ছে অতিদরিদ্র পরিবারের শিশুরা। বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদসহ দোয়া করি, যেন এভাবে সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।