পবিত্র রমজান ও ঈদ-পরবর্তী নগরবাসীকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না মশা। রংপুর নগরীর মানুষ মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামাসুন্দরী ও ক্যাডি খালে মশার বংশবিস্তার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। সিটি করপোরেশন বলছে, মশা মারার ওষুধের কোটেশন দেওয়া হয়েছে। ঈদের পরে পুরোদমে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হবে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র দিয়ে বয়ে যাওয়া শ্যামাসুন্দরী খালটি সংস্কার কাজ থমকে থাকায় মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে।
অপরদিকে নগরীতে কেডি খাল নামে আরেকটি খাল রয়েছে। এই খালের প্রায় চার কিলোমিটার অংশ পরিষ্কার করা হয় না বছরের পর বছর। ফলে শ্যামাসুন্দরীর চেয়ে বেশি মশা জন্ম নিচ্ছে ওই খালে। এমনটাই অভিযোগ করেছেন খাল সংলগ্ন বাসিন্দারা। এ ছাড়া নগরীর ড্রেন, পুকুর-জলাশয়গুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করায় সেখানেও উৎপাদন হচ্ছে মশা। দিনে-রাতে সর্বত্র মশার অত্যাচারের কারণে মশাবাহিত রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্প্রে কিংবা কয়েলেও মশা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। নগরীর জলাবদ্ধতা দূর করতে রংপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকী বল্লভ সেন ১৮৯০ সালে তার মা চৌধুরাণী শ্যামাসুন্দরী দেবীর নামে খালটি পুনঃখনন করেন।
এটি ঘাঘট নদী থেকে শুরু করে নগরীর ধাপ পাশারী পাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সীপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর, বৈরাগীরপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় খালটি নাব্য হারিয়ে ফেলেছে। এর দুই ধারে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ায় সংকীর্ণ হয়ে পড়ে খালটি। সামান্য বৃষ্টিতেই গোটা শহরে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান জানান, মশক নিধন ওষুধ কেনার জন্য কোটেশন দেওয়া হয়েছে। ঈদের পরে ওষুধ কেনা হবে। তখন পুরোদমে মশকনিধন শুরু হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে সীমিতভাবে মশা নিধন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।