গাজীপুরে সড়ক ও মহাসড়কে চলছে দখলের রাজত্ব। একটি চক্র সড়কের জায়গা কিংবা ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ, ঝুটের গুদাম নির্মাণসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করে ভাড়া দিয়ে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে। একদিকে মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশে নির্মাণকৃত ঝুটের গুদাম থেকে ঘটছে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। সিটি করপোরেশন ও সওজ কর্তৃক উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় দখলদারদের দখল রাজত্ব বেড়েই চলছে। দখলের রাজত্ব চলছে টঙ্গী মেঘনা বটতলা রোড, সোনালী ট্যোবাকো রোড, ন্যাশনাল টিউবস রোড, টঙ্গী পূর্ব থানার পেছনে তালতলা রোড, টঙ্গী বাজার মিতালী পাম্প, মিতালী পাম্পের দক্ষিণ পাশে মহাসড়কে বিশাল কাপড়ের বাজার, টঙ্গী বাজার সংলগ্ন তুরাগ নদের তীর, টঙ্গী বাজার হাজী মার্কেট, মিল গেট, দত্তপাড়া, আউচপাড়া, এরশাদ নগর, গাজীপুরা সাতাইশ, বড়বাড়ি, বোর্ডবাজার, মিরের বাজার, পূবাইল, জয়দেরপুর, বাসন, কাশিমপুর, কোনাবাড়ি, সালনাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও মহাসড়কে দখলের রাজত্ব। টঙ্গী ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড মেঘনা বটতলা রোডে ও পাশের আরও একটি সড়কে প্রায় অর্ধশত ঝুটের গুদাম রয়েছে।
গুদামের মালিক শের আলী, রমজান, সিরাজ উদ্দিন, জুয়েল, রুচি, আবু সাঈদ, ময়নাসহ আরও অনেকে রয়েছেন। এর মধ্যে চারটি গুদামের মালিক রুচি নামের এক নারী। তিনি প্রতিটি গুদাম থেকে ৩ ও ৪ হাজার টাকা ভাড়া নেন। থাকেন অন্যত্র। ঝুট ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, আমি একটি গুদাম নিয়ে ৩ হাজার টাকা ভাড়া দিই। অন্য আরেক ঝুট ব্যবসায়ী বারেক বলেন, আমার গুদামের মালিক শের আলী। আমি ৪ হাজার টাকা ভাড়া দিই। আমাদের সরে যেতে বললে আমরা চলো যাব। এই সড়কে রয়েছে পিনাকী গ্রুপের পোশাক কারখানা, এ্যামট্রানেট গ্রুপের আরও একটি পোশাক কারখানা, মেঘনা টেক্সটাইলস মিলস, এসএস প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, প্রস্তাবিত গাজীপুর সিটি স্কুল, রিদিশা ফুডস লি., পপুলার ফার্মাসিটিক্যালসসহ দেশের নামিদামি শিল্পপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকরা থাকেন আগুন আতঙ্কে। পিনাকী গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান বলেন, রাজউক কর্তৃক দেওয়া শিল্পপ্লট ও শিল্পকারখানার পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য ঝুটের গুদাম রয়েছে। এসব গুদাম থেকে কিছুদিন পর পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শিল্প বাঁচাতে দেশের স্বার্থে এসব ঝুটের গুদাম রাখা যাবে না। নির্দিষ্ট একটি স্থানে ঝুটের গুদাম নির্মাণ করতে হবে। আবুল খায়ের গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, আমাদের ওয়্যার হাউসের পাশে ঝুটের গুদামের আগুন আমাদের ওয়্যার হাউসে ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায়। এসব গুদাম সিটি কর্তৃক উচ্ছেদ করতে হবে। সিটি করপোরেশন টঙ্গী জোনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের রাস্তা ও ফুটপাত দখলকারীদের নির্মাণাধীন দোকান, ঝুটের গুদাম ও স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মাইকিং করেও জানানো হবে। এরপরও নিজ নিজ দায়িত্বে স্থাপনা না সরালে উচ্ছেদ করা হবে।