গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকার বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ নিয়ে চলছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। নেতারা এখন একচ্ছত্রভাবে ময়লার ব্যবসায় মেতেছেন। নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডের ময়লা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঘটেছে সংঘর্ষের ঘটনাও। অন্যদিকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিটি ডাম্পিং থেকে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডাম্পিং, সড়ক ও মহাসড়কে বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফেলা ময়লা অপসারণে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় ময়লায় সয়লাব নগরী। ফলে দূষণ হচ্ছে পরিবেশ। বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন এলাকাবাসী। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকাজুড়ে। এতে বেড়েছে মশার উপদ্রবও। নাগরিক সেবা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। প্রায় ৩২৯.৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের গাজীপুর সিটি করপোরেশনের লোকসংখ্যা ৬৫ লাখ। রয়েছে ৫৭টি ওয়ার্ড। একদিকে নেই প্রতিটি ওয়ার্ডে পরিকল্পিত ডাম্পিং ব্যবস্থা। সড়ক মহাসড়কে ও যেখনে সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষণ করছে। বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ নিয়ে চলছে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য। প্রতিটি ফ্ল্যাট কিংবা রুম থেকে মাসিক ৫০ থেকে ১০০ টাকা চুক্তিতে বর্জ্য নিয়ে যান ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিক করা লোকেরা। সিটি করপোরেশনের নিয়মানুযায়ী, কোথাও ময়লা সংগ্রহের ব্যবসা করতে হলে তাদের অবশ্যই সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিতে হয় তা টেন্ডারের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে যারা ময়লা সংগ্রহ করছেন তাদের কারও কোনো অনুমোদন নেই। ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় দেড় লাখ লোকের বসবাস। এর জন্য রয়েছে একটি ডাম্পিং। ডাম্পিংয়ে ময়লা ফেলার স্থান সংকুলান না হওয়ায় ময়লা ফেলা হচ্ছে সড়কে। এই ময়লা সড়কে ফেলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটছে হতাহতের ঘটনাও। ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়কের স্টেশন রোড এলাকায় ফেলা হচ্ছে। এমন চিত্র পুরো নগরজুড়ে।
৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের ময়লা ফেলার সুপারভাইজার নূর হোসেন বলেন, আগে কাউন্সিলর হেলালকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা দিতাম, এখন বিএনপি নেতাদের ১ লাখ সত্তর হাজার টাকা দিই। বর্জ্য কর্মকর্তা আরিফ স্যারকে দিই ১০ হাজার টাকা।
টঙ্গী জোনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আরিফুর রহমান টাকা নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা দাবি করে বলেন, টঙ্গীতে ময়লা নিয়ে টেন্ডার হয়নি। যার যার মতো করে ব্যবসা করছে। টঙ্গীতে ১০টি ডাম্পিং রয়েছে। এখানে টনে টনে ময়লা পড়ে। এসব ময়লা সরিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে। আমাদের পর্যাপ্ত গাড়ি নেই। আমাদের সময় দিতে হবে।