মেয়র ও কাউন্সিলরবিহীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সর্বক্ষেত্রেই যেন অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সিটি এলাকার কোথাও কোনো শৃঙ্খলা নেই। আছে শুধু বিশৃঙ্খলা আর ভোগান্তি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব পালনে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিবিহীন নগরে তারা যেন নির্বিকার।
পুরো নাসিক এলাকায় রাস্তাঘাটের কোনো সংস্কার নেই। যানবাহন, দ্রব্যমূল্য ও নাগরিক সুবিধার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। টিসিবির পণ্য বন্ধ হয়ে গেছে। জন্ম সনদ পেতে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের বাতি নষ্ট থাকলেও ঠিক করার উদ্যোগ নেই। এসব এলাকায় রাত হলেই অন্ধকার নেমে আসে। পরিণত হয় অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে। সব মিলিয়ে অভিভাবকহীন শহরে পরিণত হয়েছে এই নারায়ণগঞ্জ।
মানুষের কোথাও যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এরই মধ্যে ভোটার হালনাগাদ শুরু হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর না থাকায় এক্ষেত্রেও নাগরিকদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। ভোটার হতে নাগরিক সনদ লাগে। এটা করতে হলে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। অনলাইনে আবেদন করতে গিয়ে করপোরেশনে বারবার আসতে হয়; যা আগে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডেই করা যেত।
গত ৫ আগস্টের পর মেয়র ও কাউন্সিলরবিহীন এই শহর যেন সব সময়ের জন্যই যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, শায়েস্তা খাঁ সড়ক, নবাব সিরাজউদ্দৌলা সড়ক ও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে গভীর রাত পর্যন্ত যানজট লেগেই থাকে। সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং, ফুটপাথ ও সড়কের হকারদের নিয়ন্ত্রণহীন দখলদারিত্ব, সিএনজি-মিশুক-লেগুনার অবৈধ স্ট্যান্ডসহ নানা কারণে এই সড়কগুলোতে দিনব্যাপী যানজট লেগে থাকে। যদিও জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের যৌথ অভিযানে যানজট কিছুটা কমেছে।
নাসিকের চারবারের কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু বলেন, এটি অভিভাবকহীন শহরে পরিণত হয়েছে। কাউন্সিলরদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে অপরাধীরা অপরাধ করতেও ভয় পেত। এখন মানুষ খুব কষ্টে আছে। একটা পরিচ্ছন্ন নগর নষ্ট হয়ে গেছে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, আমাদের প্রশাসক আছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে। উনার মূল দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ে। এখানে সপ্তাহে দুই দিন আসেন। তার পরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এ এইচ এম কামরুজ্জামান বলেন, পরিবর্তিত এই সময়ে আমাদের কাজ করতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। সব সমস্যা তো একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে প্রতিটি বিষয়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েই কাজ করছি।