পড়ালেখার গণ্ডি বেশি দূর পাড়ি দেওয়ার সুযোগ হয়নি নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদী এলাকার বাসিন্দা রুবেল মিয়ার। ক্লাস সেভেন পড়ার সময় তাঁকে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়। বাবা হাসিব মিয়ার গড়ে তোলা চা দোকানে সময় দিতে হয় তাঁকে। একপর্র্যায়ে তাঁর বাবা মৃত্যুবরণ করলে এককভাবে পুরো দোকানেরই দায়িত্ব নিতে হয় রুবেল মিয়াকে। সেই সঙ্গে দিনদিন তাঁর চা দোকানের সমৃদ্ধি লাভ করে। তিনি চায়ের পাশাপাশি দুধ দিয়ে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি করেন। সেই সঙ্গে মালাই চা বিক্রি করা শুরু করেন। আর এই মালাই চা যেন তাঁর ভাগ্য ঘুরিয়ে দেয়। নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশ এলাকাতেও তাঁর মালাই চায়ের ব্যাপক পরিচিত লাভ করে।
আর এই মালাই চা বিক্রির টাকায় মাদরাসার জন্য জমি ক্রয় করেন। যার বর্তমান বাজারমূল্য কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। তাঁর ক্রয় করা জায়গাতেই মাদরাসা নির্মাণ করা হয়। যার নাম দেওয়া হয়েছে কাদেরিয়া তাহেরিয়া সাবেরিয়া হাসিবিয়া মাদরাসা।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মাদরাসার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করছেন। সেই সঙ্গে সর্বমোট সাতজন শিক্ষক মাদরাসাটিতে কর্মরত। রুবেল মিয়ার উদ্দেশ্য এ মাদরাসাকে শ্রেষ্ঠতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। নিজে পড়ালেখার সুযোগ না পেলেও তিনি চান ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন পড়ালেখা করে নিজেদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। সরেজমিন রুবেল মিয়ার চায়ের দোকানে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের সাবদী হাজরাদী ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে চায়ের দোকানটি গড়ে তোলা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে রুবেলের দোকানে চা পান করতে আসেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সেই সঙ্গে প্রতিদিন মালাই চাসহ বিভিন্ন ধরনের ৫ শতাধিক কাপ চা বিক্রি হয় তাঁর দোকানে। ছুটির দিনে চা বিক্রির সংখ্যা হাজার কাপ ছাড়িয়ে যায়।
মাদরাসায় জমি দান প্রসঙ্গে রুবেল বলেন, আমি তেমন পড়াশোনা করতে পারিনি। মাত্র ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পেরেছিলাম। পরে এই চায়ের দোকানে মনোযোগ দিই। এই চা দোকান দেওয়ার আগে থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল উপার্জনের টাকা দিয়ে কোনো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করার। দীর্ঘদিন পর আমার সেই আশা পূরণ হয়েছে।