পাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে উন্নত জীবনের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ইউরোপের পথে পা বাড়িয়েছিলেন পাঁচ বাংলাদেশি। প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপ যাওয়ার কথা ছিল তাঁদের। তবে লিবিয়া পৌঁছানোর পরই তাঁদের ভবিষ্যতের স্বপ্ন পরিণত হয় দুঃস্বপ্নে। ভয়ংকর মানব পাচারকারী চক্র তাঁদের মাফিয়ার হাতে তুলে দেয়। অমানুষিক নির্যাতন করে তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। এরপর জেল খেটে নানা ঘাট পেরিয়ে অবশেষে নির্মম নির্যাতনের শিকার সেই পাঁচ বাংলাদেশি গতকাল দেশে ফিরেছেন। তাঁরা হলেন ঢাকার মোস্তাকিম সরকার, শেরপুরের মোজাম্মেল হক, মাদারীপুরের জিহাদ ফকির, রোমান হাওলাদার ও ইয়াসিন হাওলাদার।
ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফেরা মাদারীপুরের ইয়াসিন হাওলাদার বলেন, ‘লিবিয়ায় মাফিয়ার কাছে আটক ছিলাম। আমার পরিবার ঋণ, জমি বন্ধক ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার নিয়ে দালালদের মোট ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়েছে।
এখন আমার পরিবারের আর কিছুই নেই।’ ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যরা তাঁদের জিম্মি ও নির্যাতন করে বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে মুক্তিপণ আদায় করে।
এরপর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য এক বোটে তুলে দেয়। সাগরে বোট নষ্ট হয়ে গেলে তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ড তাঁদের উদ্ধার করে আলজেরিয়া সীমান্তে নিয়ে নামিয়ে দেয়। সেখানে অনুপ্রবেশের দায়ে বিভিন্ন মেয়াদে জেল খাটেন তাঁরা। পরে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং আলজেরিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার আজিজ আহমেদ বলেন, ‘পাঁচ বাংলাদেশি মানব পাচার সার্ভাইভারের প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাফিকিং-ইন-পারসন্স হিরো নেটওয়ার্কের সহায়তা নিয়েছি। এর আগে গত বছর আরও আট বাংলাদেশিকে ব্র্যাক ও টিআইপি হিরো নেটওয়ার্কের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’