সিরিয়ার নতুন শাসক আল-শারার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের আলাউয়ি সম্প্রদায়ের যোদ্ধাদের সংঘর্ষে হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সিরীয় যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী একটি সংগঠন শনিবার এ তথ্য জানায়। ব্রিটেনের সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস (এসওএইচআর) জানিয়েছে, লাতাকিয়া, তারতুস এবং হামা গভর্নরেটের ২০টিরও বেশি স্থানে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যা সিরিয়ার ১৪ বছরের সিরিয়ার চলমান অশান্তির অন্যতম মারাত্মক ঘটনা। তেমনই দাবি করেছে একাধিক প্রতিবেদন।
ডিডব্লিউর রিপোর্টে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৭৪৫ জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের বেশির ভাগকেই খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া ১২৫ জন সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং ১৪৮ জন আসাদপন্থি জঙ্গি নিহত হয়েছে। পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে নিহত বেসামরিকদের বেশির ভাগই দেশের আলাউয়াইট ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। আলজাজিরার মতে, সিরিয়ার অন্তর্র্বর্তী সরকার শনিবার দেশের উত্তর-পশ্চিম উপকূলীয় শহরগুলোতে অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী সাবেক শাসক বাশার আল-আসাদের অনুগত যোদ্ধাদের সঙ্গে ভারী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। আলজাজিরার মতে, নিরাপত্তা বাহিনী শনিবার জানিয়েছে যে তারা তারতুস এবং লাতাকিয়া গভর্নরেটের বেশির ভাগ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে, যেখানে আল-আসাদের অনুগতরা বৃহস্পতিবার সমন্বিতভাবে চেকপয়েন্ট, নিরাপত্তা কনভয় এবং সামরিক অবস্থানে হামলা চালিয়েছিল। আলজাজিরা, সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন হামলার পর, বহু লোক সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার প্রতিশোধ নিতে উপকূলীয় এলাকায় গিয়েছিল। কর্মকর্তা বলেন, এই পদক্ষেপের কারণে ‘কিছু ব্যক্তিগত অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে এবং আমরা সেগুলো বন্ধ করার জন্য কাজ করছি’।
আলজাজিরার মতে, লাতাকিয়া এবং অন্যান্য উপকূলীয় এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে, যেখানে আল-আসাদের সংখ্যালঘু আলাউয়াইট সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রধানত বসবাস করে এবং এটি তার দীর্ঘদিনের সমর্থন ঘাঁটি। চলমান সংঘর্ষের মধ্যে, কয়েক ডজন বেসামরিক নাগরিক এবং প্রাক্তন শাসনের সদস্য ও তাদের পরিবার লাতাকিয়া গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত রুশ খেমেইমিম ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছে। আলজাজিরা জানিয়েছে, সহিংসতার এই উত্থানের পর সিরিয়ার অন্তর্র্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারাহ শুক্রবার তার প্রথম প্রকাশ্যে দেওয়া বক্তব্যে যোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ করার এবং ‘দেরি হওয়ার আগেই’ আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।