পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সীমান্তবর্তী শহর গুলাম খান কালায় শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন মুজিবুর রেহমান ওরফে মনসুর নামে এক আফগান জঙ্গি কমান্ডারসহ ১৪ সন্ত্রাসী। সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, সেনা ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত এই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হয়েছেন এ ১৪ জন।-জিও নিউজ
নিহতরা সবাই পাকিস্তানের নিষিদ্ধ কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দল তেহরিক-ই তালিবানের (টিটিপি) সদস্য। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া আফগানিস্তানের তিনটি সীমান্ত ক্রসিং রয়েছে। গুলাম খান কালায় সেগুলোর মধ্যে একটি। বাকি দুটির নাম তোখরাম এবং চমন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্ত অঞ্চলে টিটিপিকে সংগঠিত করতে মুজিবুর রেহমান ওরফে মনসুরকে নিয়ে আসা হয়েছিল। মনসুরের বাড়ি আফগানিস্তানের ময়দান ওয়ারদাক প্রদেশের দানদার গ্রামে। তার বাবার নাম মির্জা খান। আফগানিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল মিলিটারি একাডেমির একজন ক্যাডেট ছিলেন তিনি। পাকিস্তানে আসার আগে আফগান সেনাবাহিনীর তৃতীয় ব্যাটালিয়নের একজন কমান্ডার ছিলেন মনসুর। আফগানিস্তানের তালেবান বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট টিটিপি দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তানে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। দলটির মূল লক্ষ্য জাতীয় ক্ষমতা দখল করা। পার্বত্য প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন জেলা ও গ্রামগুলো টিটিপির প্রধান ঘাঁটি অঞ্চল। পাকিস্তানে প্রতি বছর যত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে, সেগুলোর অধিকাংশের জন্য দায়ী টিটিপি। টিটিপিকে দমনে কয়েক বছর ধরে অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানের সেনা-পুলিশ যৌথ বাহিনী। এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলায় বদরুদ্দিন নামের এক আফগান কমান্ডার নিহত হয়েছিলেন। পাকিস্তানে আসার আগে আফগান সেনাবাহনীর একজন লেফটেন্যান্ট ছিলেন তিনি। -জিও নিউজ