যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউজার্সি, মিশিগান, ইলিনয়, আলাবামা, পেনসিলভেনিয়া, টেক্সাস, ম্যাসাচুসেটস, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে লক্ষাধিক প্রবাসীকে বহিষ্কারের নির্দেশ জারি হয়েছে। এ প্রবাসীদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিও রয়েছেন, যারা অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তারের পর স্বদেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, প্রকৃত অর্থে কতজন বাংলাদেশি অবৈধভাবে রয়েছেন তার সংখ্যা সহজে জানা সম্ভব নয়। কারণ তাদের অনেকেই মেক্সিকো কিংবা কানাডা হয়ে বেআইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নামে ইমিগ্রেশনে আবেদন করেছিলেন। এজন্য সংখ্যাগত সমস্যা রয়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত থেকে বহিষ্কারের আদেশ জারি হওয়া অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি। সেটিকে ধরে নিয়েই চালানো হচ্ছে গ্রেপ্তার অভিযান। এমন সাঁড়াশি অভিযানে দিশাহারা অনেকে তাদের ব্যবসাবাণিজ্যও ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরে যারা ফাস্টফুডের দোকানে কাজ করতেন তারাও এখন আর কর্মস্থলে যাচ্ছেন না। গত মাস থেকেই এসব ফাস্টফুড এবং কমিউনিটিভিত্তিক রেস্টুরেন্ট-গ্রোসারিতে কর্মচারীর সংখ্যা কমেছে। এমনকি দিনভর আড্ডা দেওয়া অতিপরিচিত লোকজনের আনাগোনা নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় কয়েক শ প্রবাসী গ্রেপ্তারের আতঙ্কে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে গেছেন। উল্লেখযোগ্য, গত মাসে কংগ্রেসে ৮৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বিল পাস করা হয়েছে। এর সিংহভাগ ব্যয় করা হবে অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের অভিযান জোরদারের জন্য। যদিও এ অর্থকেও পর্যাপ্ত মনে করা হচ্ছে না প্রয়োজনের তুলনায়। কারণ গ্রেপ্তারের পর নিজ নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। বিমানের ভাড়াও পরিশোধ করতে হয় ফেডারেল সরকারকেই।
গ্রেপ্তার হলেন আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিও : আগামী বছরের ৫ ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত শুনানির তারিখ থাকা এক রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী বাংলাদেশিকেও ৪ মার্চ নিউইয়র্ক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কামরুল হাসান নামক ওই বাংলাদেশিকে ফোন করে ম্যানহাটানে আইসের (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস অ্যানফোর্সমেন্ট) অফিসে যেতে বলা হয়েছিল। সেখানে গেলেই তাকে আটক করার সংবাদটি কমিউনিটিতে ভীতির মাত্রা চরমে উঠিয়েছে।
যদিও বলা হয়েছে যে, গুরুতর অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে। নোয়াখালীর চাটখিলের সন্তান হাসান ২৮ লাখের অধিক টাকা দালালকে দিয়ে বহু দেশ ঘুরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বছর তিনেক আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার পর ওয়ার্ক পারমিটও পেয়েছেন, অর্থাৎ কোনোভাবেই অবৈধ অভিবাসীর পর্যায়ে ছিলেন না।
তবুও কেন তাকে অফিসে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল- এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের ডাইরেক্টর এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, আবেদন পেন্ডিং থাকাবস্থায় গ্রেপ্তারের ঘটনাটি সত্যি দুঃখজনক এবং উদ্বেগের। অর্থাৎ এখন গ্রিন কার্ডধারী, এমনকি সিটিজেনশিপ থাকা লোকজনকেও সবসময় আইডি সঙ্গে রাখা জরুরি। এ ছাড়া, যারা গ্রেপ্তারের পর বন্ডে জামিন পেয়েছেন তাদের জামিনের শর্তগুলো মেনে চলা উচিত। কামরুল হাসানের ব্যাপারটি অনেকের জন্য শিক্ষণীয় হতে পারে।
অ্যাটর্নি মঈন আরও উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসী তাড়ানোর যে কার্যক্রম চলছে তার টার্গেট হওয়ার আশঙ্কা থাকা প্রবাসীদের প্রতি আবারও অনুরোধ রাখছি- তারা যেন নিজ নিজ অ্যাটর্নির পরামর্শ অনুযায়ী চলাফেরা করেন। সিটি, স্টেট অথবা ফডারেলের আইন লঙ্ঘিত হতে পারে এমন কোনো কাজ/কথা না বলাই শ্রেয়। আইস কিংবা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে মিথ্যা বয়ান অথবা ডকুমেন্ট সাবমিট করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।