কণ্ঠশিল্পী আঁখি আলমগীর। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই তারকার গাওয়া অনেক গানই রয়েছে শ্রোতাদের পছন্দের তালিকায়। নিয়মিত মৌলিক গান প্রকাশ করে যাচ্ছেন জনপ্রিয় এই গায়িকা। স্টেজ শোতেও অনেক ব্যস্ত তিনি। গান ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে - পান্থ আফজাল
গানে তিন দশক পূর্ণ, জার্নি নিয়ে কিছু বলার আছে?
শিল্পী হিসেবে তিন দশক দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়াটা নিশ্চয়ই সৌভাগ্যের বিষয়। আমাকে যে মানুষ চেনে, আমার গান ভালোবাসে, জাতীয়ভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছি, এগুলোই বড় পাওয়া। আমার কাছে প্রথম থেকেই ক্যারিয়ারটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। জানি না, কতটুকু পেরেছি। তবে চেষ্টার ত্রুটি ছিল না।
নতুন অডিও গান...
গান তো প্রকাশ করলে যখন-তখন করা যায়। কয়েকটি গান তৈরিই আছে। প্রকাশ করছি না অনেক কারণে। একে তো এখন অস্থির সময় চলছে, শ্রোতারা ট্রেন্ডি গানে মজে আছে। তারা আগে শান্ত হোক, তারপর নতুন গান। আর আমরা চাইলেও তো সস্তা কথার গান করতে পারব না। চলতি কথার গান এক ধরনের আর সস্তা কথার গান আরেক ধরনের। এমনিতে বেছে বেছে কাজ করতে পছন্দ করি। একটা শ্রোতামহলও আছে। তাদের নিরাশ করতে চাই না।
ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসায় সেলিব্রেটিদের একটি ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীতে ছিলেন...
মূলত ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। গত ২০ মার্চ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত এই বিশেষ প্রদর্শনী চলে। নিশ্চয়ই এটি একটি ভালো উদ্যোগ। কারণ, এই প্রদর্শনীর বিক্রয়ের সামগ্র টাকা ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হবে। সবার ছোট ছোট অবদানই বড় কিছু করতে পারে।
রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে শিল্পীরা কোনো সমস্যায় পড়ছেন?
রাজনৈতিক কারণে আমাদের দেশের শিল্পীরা বেশি সাফার করেন। এমনটি পৃথিবীর কোথাও নেই। আমরা যারা পেশাদার শিল্পী আছি, তারা করপোরেট শোয়ের পাশাপাশি অনেক রাজনৈতিক শোও করি বা করতে হয়। এগুলো কিন্তু সম্মানি নিয়েই করা হয়, কিন্তু এসবের কারণে আমাদের শিল্পীদের রাজনৈতিক তকমা দেওয়া হয়। ক্ষমতার পরিবর্তন হলে আবার ওই শিল্পীদের আর কোনো অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না। শিল্পীরা তো কোনো দলের না।
সামাজিক মাধ্যমে শিল্পীদের কাদা ছোড়াছুড়ি...
এগুলো খুবই দুঃখজনক। এখন যেরকম হয় এগুলো আমি কখনোই দেখিনি। শিল্পীর সঙ্গে শিল্পীর প্রতিযোগিতা সারা জীবন ছিল। রেষারেষি বা কারও সঙ্গে ঝগড়া হতেই পারে। সেটা পাবলিকলি কেন হবে? সেটাকে পাবলিক করে বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পুঁজি করা এগুলো তো নোংরামি। প্রকৃত শিল্পীরা এগুলো করেন না। আসলে শিল্পীদের আরও সহনশীল হওয়া উচিত। মনের মিল না হলেই একজন আরেক জনকে ধুয়ে দিচ্ছে এটা ঠিক না। শিল্পী হওয়ার প্রথম শর্ত হচ্ছে, আগে ভালো মানুষ হতে হবে। সহশিল্পীর প্রতি সহনশীল হতে হবে।
নতুন দেশে সংগীতাঙ্গনে কোনো পরিবর্তন এসেছে?
কাজ শুরু করতে এখনো কিছুটা সময় দরকার। নতুন দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মাত্র কয়েক মাস হলো। পুরোদমে ফিরতে আরও সময় লাগবে।
সিনেমার গানে কেন নেই?
সিনেমার গানের সঙ্গে যারা আছেন ওরা মনে হয় আমাকে চেনেন না। ওরা যাদের চেনেন তাদের দিয়েই গান গাওয়ান।
ফের উপস্থাপনা করছেন না কেন?
নতুন ধরনের কোনো অনুষ্ঠান হলে উপস্থাপনা করতে সমস্যা নেই।
সামনে ঈদ। ছোটবেলার ঈদে মজার কোনো স্মৃতি শেয়ার করবেন কি?
ছোটবেলার ঈদ তো অনেক মজার ও আনন্দের। সেই মধুর স্মৃতি ভোলার নয়। আমি ঈদে অদ্ভুত সব কাণ্ড করতাম। খুব ছোটবেলায় ঈদের আগে নিউমার্কেট থেকে আর্ট পেপার কিনে নিজ হাতে কার্ড বানাতাম। সেই কার্ড আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের দিতাম। কখনো দেশের বাইরে থাকা আত্মীয়-স্বজনদেরও সেই কার্ড পাঠাতাম। আমি এখনো দেশের বাইরে গেলে কার্ডের দোকানে যাই। কার্ড কিনি। প্রিয়জনদের জন্য বা হয়তো নিজের জন্য কার্ড কিনে দেশে ফিরে ড্রয়ারে রেখে দিই।