বরেন্দ্র জেলা নওগাঁয় দিন দিন বাড়ছে গমের আবাদ। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে এ জেলায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর বেশি জমিতে গম চাষ হয়েছে। কৃষকরা বলছেন, গত বছর ফলন ভালো হয়েছিল। স্থানীয় বাজারে গমের দামও ছিল ভালো। এ কারণে তারা এবার গম চাষে আগ্রহী হয়েছেন। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া এখনো গম চাষের অনুকূলে আছে। আশা করছেন এবারও ভালো ফলন পাবেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ রবি মৌসুমে জেলার ১১টি উপজেলায় ১৭ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ১০০ হেক্টর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেলায় গম আবাদ হয়েছিল ১৪ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে। এ হিসাবে পাঁচ বছরে আবাদ বেড়েছে ৩ হাজার ২০০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে পোরশা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে। এরপরই হয়েছে সাপাহারে ৩ হাজার ৮৫০ হেক্টরে। পোরশার গাঙ্গুরিয়া গ্রামের আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এবার চার বিঘা জমিতে বারি গম-৩৩ জাতের আবাদ করেছি। খেতে এখনো কোনো রোগবালাই লাগেনি। গত বছর প্রতি বিঘায় গড়ে ১৪ মণ ফলন হয়েছিল। এবার গমের দানা আরও ভালো। আশা করছি চার বিঘায় ৫৫-৬০ মণ গম হবে। সাপাহারের কৃষক কুমুজ আলী বলেন, গম চাষে পরিশ্রম আর পরিচর্যা নেই বললেই চলে। বীজ রোপণ আর ফসল কেটে ঘরে তোলার ঝামেলা ছাড়া তেমন কিছু করতে হয় না। শুরুতে অল্প সেচ আর মাঝে কিছু সময় কীটনাশক স্প্রে করতে হয়। অন্যান্য ফসলের তুলনায় গম চাষে অনেক সুবিধা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, গম চাষের জন্য পানি কম জমে এমন জমি উপযোগী।
নওগাঁর পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলার অনেক এলাকার জমি বেশ উঁচু। এজন্য অন্য এলাকার তুলনায় গমের ফলন বেশি হয়। চলতি মৌসুমে ৩ হাজার ৫০০ প্রান্তিক কৃষককে বীজ-সার বিতরণ করা হয়েছে। গম চাষে আগ্রহ বাড়াতে কাজ করছে কৃষি বিভাগ।