নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা কাঠের সাঁকো। নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ। ৯ বছর ধরে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
জানা যায়, ২০১৬ সালে বন্যায় ডিমলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের খাড়াপাড়া যাতায়াতের সড়কটি ভেঙে যায়। তখন থেকে চলাচলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা একাধিকবার আশ্বাস দিয়েছেন। আজও সড়কের ভাঙা অংশে হয়নি সেতু। বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে বাঁশ-কাঠ সংগ্রহ করে বানিয়েছেন সাঁকো। ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাড়সিংহেশ্বর ও খগারচর গ্রামে নদীবেষ্টিত বাঁধের পাশে আড়াই হাজারের বেশি পরিবারের বসবাস। ওই গ্রামের আলী আজগর বলেন, প্রতিদিন ভাঙা সড়ক দিয়ে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের আশ্রয়ণ প্রকল্প, খাড়াপাড়া ও ঝাড়সিংহেশ্বর গ্রামসহ আশপাশের এলাকার হাজারও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করেন। শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন জানায়, বর্ষার সময় বিদ্যালয়ে যেতে সমস্যা হয়। আমরা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যাই। সড়কের ভাঙা জায়গায় একটি ব্রিজ খুব দরকার।
পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, বর্ষার সময় এই খালে তীব্র স্রোত থাকে। তখন সাঁকোটি নড়বড়ে হয়ে যায়। তিস্তা নদী ভাঙনে এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত এই এলাকার মানুষ। তারওপর চলাচলে তারা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। ডিমলা উপজেলা প্রকৌশলী সফিউল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্রিজটি নির্মাণ করা হবে। ইউএনও রাসেল মিয়া বলেন, সড়কের ভাঙা স্থানে সেতু নির্মাণের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।