ফ্রুট ফ্লাই ট্র্যাপ যা মাছি ও পোকার সংক্রমণ থেকে ফলসহ সবজি রক্ষায় নতুন পদ্ধতি। এই ট্র্যাপ উৎপাদন এবং কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে লাগবে মাত্র ৫০ টাকার মতো খরচ। কৃষকরা এটি পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারবেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কীটতত্ত্ববিদ ও গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর খান উদ্ভাবন করেছেন এই ট্র্যাপ। তিনি ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরে এই গবেষণা শুরু করেন। ২০২০ সালে এ প্রযুক্তি উদ্ভাবনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেন। মঞ্জুর খান তাঁর গবেষণায় দেখেছেন, প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে নতুন উদ্ভাবিত ট্র্যাপ ব্যবহারে অধিক ফল পাওয়া যাবে। তাঁর উদ্ভাবিত ট্র্যাপের মূল বৈশিষ্ট্য এতে মাছি মারার জন্য কোনো রাসায়নিক উপাদান (কীটনাশক) বা পানি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। লিউর কর্তৃক আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন প্রজাতির পোকা খুব সহজেই ট্র্যাপে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ গঠনশৈলির কারণে একবার প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। ফলে পোকাগুলো ওই ট্র্যাপের ভিতরে আটকে থেকে মারা যায়।
ড. মঞ্জুর খান আরও জানান, এই ট্র্যাপের বাণিজ্যিক উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করা সম্ভব। এতে তাদের কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। ফলে ব্যয় কমবে এবং ফসলের গুণগত মান বজায় থাকার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা পাবে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, এটি কুমড়া, লাউ, করলা, তরমুজ, বাঙ্গি, আম, পেয়ারা, ড্রাগনসহ বিভিন্ন ফসলে সফলভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব। আবুল মঞ্জুরের দাবি, অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) একটি সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের কাছে এই ট্র্যাপের কার্যকারিতা তুলে ধরলে তারা এ উদ্ভাবনের প্রশংসা করেন। এই ট্র্যাপের বিশেষত্ব হলো, এর ভিতরে থাকা লিউর দীর্ঘদিন কার্যকর থাকে এবং প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় বেশি সুবিধাজনক।