পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের দুঃশাসনের কথা মনে হলে আজও আঁতকে ওঠেন কুমিল্লার মুরাদনগরের বাসিন্দারা। সে সময়ের প্রতিটি দিন তাদের কেটেছে হামলা-মামলা আর গুম আতঙ্কে। বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রতিটি পরিবারে ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এলাকার সংখ্যালঘুদের জমিজমাও ছিল তখনকার ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হামলার হাত থেকে রক্ষা পাননি তারা। এদিকে ৫ আগস্টের পর সারা দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও মুরাদনগরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ছাত্রদের সংগঠনে জায়গা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মোল্লা মুজিবুল হক উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব। ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই তার জীবনে নেমে আসে এক ভয়াবহ নির্যাতনের স্টিম রোলার। লাকসামে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে তিনিসহ নেতা-কর্মীরা বাসযোগে রওনা হন। মাঝপথে বাস গতিরোধ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা। জোর করে মুুজিবুল হকসহ অন্যদের বাস থেকে নামিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকে। মুজিবুল হককে কয়েকজন ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে জ্ঞান হারান তিনি। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডিবি গিয়েও চিকিৎসারত বিএনপি নেতা-কর্মীদের জোর করে বের করে দেয়। আর যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান তাদেরও হুমকি দিয়ে বলা হয়, মিডিয়ার কাছে আওয়ামী লীগের নাম বলা যাবে না, বলতে হবে নিজেদের মারামারিতে আহত হয়েছেন। মোল্লা মুজিবুল হক বলেন, ‘আমার নামে ৩০টির বেশি মামলা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।’
শুধু মোল্লা মুজিবুল হক নন, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফারুক আহমেদ বাদশা আওয়ামী নির্যাতন থেকে রেহাই পাননি। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে সরকারের এক উপদেষ্টার প্রশ্রয়ে মুরাদনগরে আওয়ামী লীগ তাদের সংগঠনে জড়ো হচ্ছে। মুরাদনগরের বাসিন্দাদের অভিযোগ, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেলেও নতুন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এলাকায় যারা এত দিন নির্যাতিত হয়েছেন তাদের অনেকে আবার কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানান, ‘৫ আগস্ট সাধারণ জনতা থানা পুলিশের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তখন সাবেক এমপি কায়কোবাদের অনুরোধে আমরা থানায় পাহারা দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করি। কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দিইনি। কিন্তু সেই পুলিশ এখন আবার বিএনপি নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে। আর বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা হলেও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না পুলিশ।’ এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পর এ থানায় দুজন ওসি বদলি হয়েছেন। আমি তৃতীয় ব্যক্তি। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে।’ এদিকে কুমিল্লা-৩ আসনের সাবেক এমপি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, ‘দেশ এখন স্বাধীন হয়েছে। মানুষ আশা করেছিল যে আবার আগের মতো পরিস্থিতি হবে না। কিন্তু গত ছয় মাসেই তিনজন ওসি বদলি হয়েছে। এএসপি বদলি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে অনেককে বদলি করা হয়েছে। যারা নতুন দল করবে তাদের পরামর্শে নতুন ওসি-এসপি দেওয়া হয়েছে।’