পবিত্র রমজান উপলক্ষে আগাম জাতের তরমুজে ভরে গেছে বরিশাল নগরীর ইলিশ মোকাম পোর্ট রোডের আড়ত। এক সপ্তাহ ধরে কৃষক ও পাইকাররা তরমুজবোঝাই ট্রলার নিয়ে ভিড় করছেন ইলিশ মোকামে। ফলন ভালো হলেও কৃষক ও ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।
নগরীর পোর্ট রোড মোকামে তরমুজ নিয়ে এসেছেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার মুকুল হোসেন মোল্লা। তিনি বলেন, ‘এবার চার একর জমিতে তরমুজের চাষ করেছি। আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বৃষ্টি না হওয়ায় তরমুজ মিষ্টি ও লাল রং হয়েছে। আশা করেছিলাম, ভালো দাম পাওয়া যাবে। তেমন পাইকার নেই। তাই দাম বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি বলেন, এখনো শীত শীত ভাব কাটেনি। তাই ক্রেতাদের চাহিদা কম। তবে রমজান শুরু হলে চাহিদা ও দাম বাড়বে। বর্তমানে আগাম জাতের তরমুজ এসেছে। মৌসুমের তরমুজ ১ চৈত্র থেকে উঠবে।
মুকুল বলেন, বর্তমানে এক থেকে দুই কেজি ওজন সাইজের প্রতি ১০০ তরমুজ ৪ হাজার, দুই থেকে তিন কেজি ওজনের তরমুজ ১০ থেকে ১১ হাজার এবং চার থেকে আট কেজি ওজনের তরমুজ ১৮ থেকে ২২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাঙ্গাবালীর চরমোন্তাজ থেকে ৬ হাজার তরমুজ নিয়ে আসা লাল বেপারী ২১ একর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন। এতে তাঁর ব্যয় হয়েছে ৭ লাখ টাকা। প্রথম দফায় মানিকগঞ্জ গিয়ে আড়াই লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। দ্বিতীয় দফায় বরিশালে ৬ হাজার তরমুজ নিয়ে এসেছেন। গড়ে ১০০ তরমুজ ১১ হাজার টাকা দাম উঠেছে। বিক্রি করেননি। ঢাকা থেকে পাইকার এলে আরও দাম পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।
বরিশাল কৃষিতথ্য সার্ভিসের কর্মকর্তা নাহিদ বিন রফিক বলেন, এবার রমজান উপলক্ষে আমন চাষ না করে পটুয়াখালী ও ভোলার কিছু অংশে আগাম জাতের তরমুজ আবাদ করেছে। এটা সব সময় করবে না।