প্রথম উপন্যাসের জন্য সাজেদুল ইসলাম পেয়েছেন 'জেমকন তরুণ কথাসাহিত্য পুরস্কার ২০২২'। এ বছর অমর একুশে বইমেলায় এসেছে তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'জলকপোত'। তরুণ এই লেখক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুসা সোহান।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : এ বছর বইমেলায় আপনার নতুন বই এসেছে- নাম ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে বলুন।
সাজেদুল ইসলাম : এ বছর লিখেছি উপন্যাস। উপন্যাসের নাম প্রথমে ভেবেছিলাম, 'বিকল্প অর্থনীতি ও গ্রাম্য কায়কারবার'। পরে নাম হলো 'জলকপোত'। গল্পের বিষয়বস্তু একদল মানুষের বিপ্লবী তৎপরতা। তারা মূলত সমাজস্থ নানা অনিয়ম ও নিপীড়নের প্রচল ভেঙে নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চায়। গন্তব্যে পৌঁছতে চেষ্টা করে, ক্লান্ত হয়, ফের তৎপর হয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : শেষ পর্যন্ত তারা কি সফল হয়?
সাজেদুল ইসলাম : বিপ্লবী উত্থানপর্বের নানা ঘটনা আখ্যানের মূখ্য বিষয়। বর্ষাকালীন রণনীতি এই বিপ্লবী পর্বের মেনুফেস্টো। তারা সফল না বিফল তা একবাক্যে বলা যথার্থ নয়।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : জলকপোতের সঙ্গে কি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো সূত্র আছে?
সাজেদুল ইসলাম : হয়তো আছে, হয়তো নেই। এই সত্যাসত্য অনুসন্ধানের দায়িত্ব পাঠকের। তবে জলকপোতে এক বিরাট জাগরণ লক্ষ্য করা যায়-সেখানে মানুষ জেগে উঠছে, দীর্ঘকাল বঞ্চিত-নিষ্পেষিত একদল মানুষ প্রাণভয় উপেক্ষা করে রাষ্ট্রশক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলছে, ভাবছে-যূথবদ্ধ হয়েই তাদেরকে বাঁচতে হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : গল্পের মুখ্য চরিত্র সম্পর্কে বলুন।
সাজেদুল ইসলাম : অনেকগুলো চরিত্র এই গল্পে প্রধান। বিশেষত একটি গ্রাম এখানে শক্তিশালীভাবে উপস্থিত। তবু একজন নারীকে বিশেষভাবে দেখা যায়। যার মানসিক শক্তি বিপুল। স্বামী ও লড়াইয়ের সঙ্গী হারিয়েও সে শেষপর্যন্ত বিপ্লবী চেতনায় অটুট। সে লড়ছে, কখনো মনে হয় সে একাই লড়ছে। কখনো মনে হয় তার চারপাশে আরও অনেকে আছে ছায়া হয়ে। তার চোখ প্রেম ও প্রতিশোধে পূর্ণ। সে নিজ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে। মহাজন খুনে নেতৃত্বদান পরবর্তী বর্ষাপ্লাবিত গোটা অঞ্চলের মুক্তির নায়কও সে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন : আপনার অন্যান্য বই সম্পর্কে বলুন।
সাজেদুল ইসলাম : 'জলকপোত' এ বছর মেলায় এনেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি। ২০২৩ সালে কাগজ প্রকাশন প্রকাশ করে উপন্যাস 'সোনার নাও পবনের বৈঠা'। তার আগের বছর আমার সম্পাদনায় দশজন শিক্ষাবিদের সাক্ষাৎকার সংকলন 'শিক্ষায় দর্শন দর্শনের শিক্ষা : সৈয়দ মিজানুর রহমানের মুখোমুখি দশ বিশিষ্টজন' ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত হয়। আর প্রথম কবিতার বই 'অবিরত জোছনার গান' প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। এছাড়াও আমি ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত 'সৈনিক' নামে একটি রাজনীতির ছোটকাগজ সম্পাদনা করেছি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : পরবর্তী লেখালেখি নিয়ে কী ভাবছেন?
সাজেদুল ইসলাম : নিয়মিত লিখতে চাই। এমনকি প্রতিদিন। যদিও তা সবসময় সম্ভব হয় না, তবুও। পরের বছর একটি গল্পগ্রন্থ নিয়ে কাজ করব বলে ভাবছি।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আপনার গল্প 'চোখ পাখি ও এক উজ্জ্বল মাছ' নিয়ে কিছু বলুন।
সাজেদুল ইসলাম : একজন অসুখী সরকারি চাকুরের গল্প। সুখের অসুখ তাকে তাড়িয়ে ফেরে সর্বদা। এক নিমিষে পড়ার মতো খুব ছোট একটি গল্প।
বাংলাদেশ প্রতিদিন : আপনাকে ধন্যবাদ।
সাজেদুল ইসলাম : বাংলাদেশ প্রতিদিনকেও ধন্যবাদ।
বিডি প্রতিদিন/এমএস