ফ্যাশন দিনদিন ভোল পাল্টায়। ট্রেন্ড আসে ঘুরেফিরে একই কক্ষপথে। তবে এক রকম দেখা গেলেও কিছুটা পরিবর্তন তো আছেই। সেই পরিবর্তনটা হয় ডিজাইন কিংবা প্যাটার্নে। আজকাল ছেলেরা বেশ ফ্যাশন সচেতন। ঈদ উৎসবে তার পূর্ণতা পায়। আর ঈদে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পাঞ্জাবির পরের স্থানটি বরাবরের মতো শার্টের দখলে।
আগের দিনে একরঙা শার্ট ছিল বেশ জনপ্রিয়। ষোলো থেকে ছিষট্টি, সব বয়সির পছন্দ ছিল একরঙা শার্ট। সেই সময়টা এখন আর নেই। বর্তমানে একরঙা শার্টের ফিউশন বদলে ফ্যাশনপাড়া দাপিয়ে বেড়াচ্ছে চেক, স্ট্রাইপ এবং সর্বোপরি প্রিন্টেড শার্ট। আর ঈদ ফ্যাশনে ট্রেন্ড ধরে ট্রেন্ডি হয়ে উঠতে সবাই বেছে নিচ্ছেন প্রিন্টেড শার্ট। ঠিক যেমনটি ষাট-সত্তর দশকের সিনেমাতে দেখা যেত। তবে পার্থক্য কেবল সামান্যই। তখন ছিল ঢোলা। কলার ছিল বেশ চওড়া। আর এখন স্লিম ফিট।
ফ্যাশন হাউস ইজির কর্ণধার তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ‘তরুণরা বরাবরই ফ্যাশনসচেতন। বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘুরে আর ওয়েস্টার্ন মুভি দেখে ওয়েস্টার্ন ফ্যাশনে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে। চমকপ্রদ ট্রেন্ডি কালারের শার্ট ছাড়া যেন এখনকার উৎসবগুলোই মাটি। তাই ঈদ সামনে রেখে আমরা কটন ফেব্রিক্সের ওপর অনেক ধরনের প্রিন্টের শার্ট ক্রেতাদের জন্য এনেছি। বর্তমানে প্রিন্টের শার্টগুলো পার্টিতেও বেশ মানানসই। বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশায় প্রিন্ট করা। তাই কালেকশন শুধু রঙিনই নয়, রঙের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।’
বিভিন্ন শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, সাদা ও হালকা রঙের শার্টই বেশি চলছে। অন্য রঙের মধ্যে প্রাধান্য পেয়েছে গোলাপি, নীল, সাদা, লেবু, হলুদ, কমলা, ছাই বা সবুজ রং। ইজি ফ্যাশন লিমিটেডের বসুন্ধরা সিটি শোরুমের শাখা ম্যানেজার মোহাম্মাদ সানী বলেন, এবারের ঈদে তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে শতভাগ দেশি সুতি কাপড়ের তৈরি শার্ট। কিছুটা ঢিলা কাট এবং একটু লম্বা শার্ট বেশি চলবে। তবে আঁটোসাঁটো কাটের শার্টগুলোর চাহিদাও কম নয়। ব্র্যান্ডভেদে শার্টের কাপড় ও বোতামের ডিজাইনে রয়েছে ভিন্নতা।
ঈদে ছেলেদের পোশাকে বৈচিত্র্য নিয়ে এসেছে অনেক ফ্যাশন হাউস। ডিজাইনেও এসেছে পরিবর্তন। ফ্যাশন ব্র্যান্ড ক্লাব হাউসের বসুন্ধরা সিটি শোরুমের আউটলেট অপারেশন ম্যানেজার সোহেল আহমেদ বলেন, সত্তর ও আশির দশকের পোশাকের আদলে ছেলেদের এবারে ঈদের পোশাক তৈরি করা হয়েছে। পুরোনো সিনেমার পোস্টারে অলংকৃত করা হয়েছে পোশাক। পোশাকে পোস্টার তুলে ধরার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ রং। শার্টের পাশাপাশি পলো শার্টেও ভিন্নতা আনার চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। পলো টিশার্টে একই সঙ্গে স্মার্ট ও অভিজাত লুক দিয়েছে ফ্যাশন হাউসগুলো। ইনফিনিটি মেগা মলের বিক্রয় ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন জানান, এবারের ঈদে পলো শার্টে ডোরাকাটা নকশা আর চেকের ব্যবহার দেখা যাবে। পাশাপাশি ছাপা নকশার পলো টিশার্টেরও চাহিদাও আছে। ফ্যাশন হাউসগুলো তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করেছে এবার। ঈদের পোশাক আরামদায়ক করতে কাপড়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উজ্জ্বল ও হালকা- দুটো রংই থাকছে এবারের কালেকশনে।