আসছে উৎসবের মৌসুম। ঈদ আর পয়লা বৈশাখ। উৎসবের জোয়ারে ভাসবে মানুষ। উৎসব এলে মেয়েদের চুলের কাটছাঁটে আসে নানা পরিবর্তন। সেই ধারায় বিগত কয়েক বছর ধরে চলছে রঙিন চুল। কিশোরী থেকে মধ্যবয়স্ক সব বয়সি মহিলার কাছে চুল রঙিন করা বা হাইলাইটার ব্যবহার এখন ফ্যাশন। তাই বলা বাহুল্য, চুলের ওপর রঙের আধিপত্য বেড়েছে। সেটা হোক প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম।
ত্বক বুঝে চুলের রং বাছুন
মিশ্র ত্বকে রং ম্যাচ করাটা কষ্টসাধ্য। তাই মিশ্র ত্বকে চুল রঙিন করাতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ত্বকের ধরন বুঝে হেয়ার কালার সম্পর্কে সঠিক ধারণা কেবল তারাই দিতে পারবেন। ব্রাউনের নানা শেড সাধারণত সব ধরনের ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে মেহগনির শেড বেছে নিতে পারেন। বার্গান্ডি কালারও মন্দ হবে না। গোল্ডেন হেয়ার কালার উপমহাদেশের মানুষের ত্বকের সঙ্গে বেমানান। তবে চাইলে চুলের কিছুটা অংশ হাইলাইট করা যেতে পারে। সাদা বা রুপালি রং-ও এখন হাইলাইটার হিসেবে অনেকের পছন্দ। এ ছাড়া রেড, গ্রিন, ব্লু এবং নিয়নের নানা শেড এমনকি হলুদ দিয়েও ইন্টারেস্টিং হাইলাইট করা যেতে পারে।
সঠিক রং বেছে নিন
মনে রাখবেন, প্রথমেই পারমানেন্ট হেয়ার কালার একদম নয়। চাইলে সেমি পারমানেন্ট হেয়ার কালার করাতে পারেন। যেন পরবর্তীতে কয়েকবার শ্যাম্পু করেই ধুয়ে নেওয়া যায়। প্রথমবার চুল রঙিন করালে প্রফেশনালের সাহায্য নিন। তারা চুলের ধরন ও ত্বকের রং বুঝে হেয়ার কালার করাবে। রং বাছাই করার ক্ষেত্রে নিজের চুলের রঙের বিপরীত শেডের কালার না করে ন্যাচারাল কালারের কাছাকাছি করাই ভালো। হেয়ার কালার করার আগে বয়স, গায়ের রং ও পেশা মাথায় রাখতে হবে।
ঘরে চুল রঙিন করতে
আজকাল ইউটিউবে চুল রঙিন করার অনেক ভিডিও পাবেন। যেখানে আপনাকে নির্দেশনা দিয়ে জানিয়ে দেবে হেয়ার কালার করার পদ্ধতি। এ ছাড়া হেয়ার কালারের প্যাকেটেও থাকে চুল রঙিন করার নানা নির্দেশনা। বাজারে নানা ধরনের হেয়ার কালার মিলবে।
রঙিন চুলের পরিচর্যা
মনে রাখতে হবে, চুল রঙিন করার পর দরকার সঠিকভাবে যত্ন। যার প্রথম ধাপে আছে অয়েল ম্যাসাজ। সপ্তাহে এক দিন গরম তেল ম্যাসাজ করুন। এক্ষেত্রে সেরা আমন্ড অয়েল বা তিলের তেল। কাজটি সারতে হবে শ্যাম্পু করার এক ঘণ্টা আগে। এরপর কুসুম গরম পানিতে নরম তোয়ালে ভিজিয়ে নিংড়ে নিয়ে মাথার চুলগুলো ৫ মিনিট জড়িয়ে রাখুন এবং এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। আর হ্যাঁ, হেয়ার ড্রায়ার বা চুল আয়রন এড়িয়ে চলুন।
শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার
রঙিন চুলে কালার প্রটেকটিভ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এ ধরনের শ্যাম্পু চুলের রংকে প্রটেস্ট করে এবং চুল নরম ও সফট রাখে। শ্যাম্পু করার পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এতে করে আপনার চুল আরও চকচকে, নরম এবং কোমল হবে।