আগামীর নেতৃত্ব তরুণদের হাতে। দেশজুড়ে তারুণ্যের অভিনব উদ্ভাবন ও উদ্যোগের খোঁজ করেছে গ্রামীণফোন। ২০১৫ সালে কার্যক্রম শুরু করে জিপি এক্সিলারেটর। এর মাধ্যমে ৫০টি স্টার্টআপের প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের স্টার্টআপ খাতে যারা সৃজনশীল কাজ করছেন তাদের স্বীকৃতি ও উদ্ভাবনের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য। ‘জেলায় জেলায় স্মার্ট উদ্যোক্তা’র উদ্যোগে দেশজুড়ে ৫ হাজার ২০০ তরুণের কাছে পৌঁছায় জিপি এক্সিলারেটর টিম। দেশজুড়ে চলা বুটক্যাম্পের মাধ্যমে মেধাবী তরুণদের উদ্ভাবন খুঁজে বের করে তারা। কয়েক হাজার তরুণ উদ্যোক্তা এতে সাড়া দেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবন ও উদ্যোগের চমক দেখিয়েছেন। এ উদ্যোগগুলো কাজে লাগিয়ে কীভাবে নতুন কাজের ক্ষেত্র তৈরি করা যায় ও জনজীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যায়, এ বিষয়ে সহযোগিতা করেন কমিউনিটি বিল্ডাররা। তরুণদের দক্ষতা অর্জন, নেটওয়ার্কিং এবং ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও এগিয়ে আসে জিপি এক্সিলারেটর। সেরাদের সেরা হন ২০ জেলার ২০ জন। ২৭ ফেব্রুয়ারি তারা নিজ নিজ উদ্ভাবন ও উদ্যোগের কথা জানাতে একত্র হয়েছিলেন রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে। দর্শনার্থীদের জানান তাদের উদ্ভাবন ও কর্মযজ্ঞ। বিভিন্ন ধরনের উজ্জীবনী উদ্ভাবন ও উদ্যোগের নেপথ্যে যারা রয়েছেন তাদের স্বীকৃতি দিয়েছে জিপি এক্সিলারেটর। ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গালা নাইটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০ জন বিজয়ী এবং কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় ৩০ জন কমিউনিটি বিল্ডারের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সেরা ২০ উদ্যোক্তাকে ১ লাখ টাকা করে চেক হস্তান্তর করে গ্রামীণফোন। উদ্যোক্তাদের হাতে চেক তুলে দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবু বকর ছিদ্দিক, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (সিসিএও) তানভীর মোহাম্মদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে এ উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের এখন ইনফরমেশন এবং কানেকটিভিটি নিয়ে কাজ করতে হবে। বিনোদন নয়, জনচাহিদার ওপর দৃষ্টি দিয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’ গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (সিসিএও) তানভীর মোহাম্মদ বলেন, ‘পরবর্তী প্রজন্মের সাফল্যের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা, সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে অবদান রাখাই আমাদের লক্ষ্য। “জেলায় জেলায় স্মার্ট উদ্যোক্তা” উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তরুণ উদ্যোক্তাদের মাঝে অসাধারণ সম্ভাবনা দেখেছি।’
কৃষকের জন্য ড্রোন
সবুজ হোসেন। থাকেন দিনাজপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। বয়স ২১। তারুণ্যের উদ্যমে ভরপুর একজন। ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। তার বাবা একজন কৃষক। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে কাজ করেন ফসলের মাঠে। কৃষকের কষ্ট, আনন্দ দুটোই দেখেছেন খুব কাছ থেকে। ফসলি খেতে কীটনাশক ছিটাতে কৃষককে বয়ে বেড়াতে হয় ভারী ¯েপ্র মেশিন। প্রতিবার ২০ লিটারের কীটনাশক ঘাড়ে তুলে দিনভর চলে কষ্টসাধ্য এ কাজ। সঙ্গে রয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। এসব ভাবিয়ে তুলেছিল সবুজকে। উন্নত বিশ্বে আজকাল রোবোটিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করা হয়। সেখান থেকেই কীটনাশক ছড়াতে ড্রোন তৈরির কথা ভাবেন এ তরুণ। বিস্ময়কর হলেও সত্যি, মাত্র তিন বছরের সাধনায় স্মার্ট ড্রোন তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেন তিনি। তার তৈরি স্মার্ট ড্রোন ১৬ লিটার কীটনাশক নিয়ে উড়তে পারে। এ ড্রোনের নাম দিয়েছেন ‘স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচারাল ড্রোন’। তার অভিনব উদ্ভাবন কমাবে কৃষকের পরিশ্রমসাধ্য কাজ। স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও থাকবে না আর দুশ্চিন্তা। ফসলি মাঠে এই আধুনিক ড্রোন ছড়িয়ে দিচ্ছে কীটনাশক। ড্রোন আরসি বিডি নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে তার। এ ড্রোন নিয়ে বিস্তারিত জানার সুযোগ রয়েছে সেখানে। সবুজ হোসেন বলেন, ‘মানুষের স্বপ্নের কোনো সীমানা থাকে না। মানুষ আকাশ ছুঁতে চায়। আমার ড্রোন সত্যি সত্যি আকাশে উড়ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণার সহযোগিতায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকায় এ ড্রোন তৈরি করেছি। সময় লেগেছে প্রায় তিন বছর। কৃষক সমিতি বানিয়ে ফসলি মাঠে কৃষিযন্ত্র ভাড়া করে ব্যবহার করেন। একজন এ যন্ত্র কিনে সবাই মিলে ব্যবহার করতে পারবেন।’ তার উদ্ভাবিত ড্রোনটি রিমোট কন্ট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে অনায়াসে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একই সঙ্গে এটাতে সংযোগ করা হয়েছে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম)। যে কোনো জায়গায় বসেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের দুর্দশা কমাবে যে যন্ত্র
বরিশালের তরুণ উদ্যোক্তা আবু সুফিয়ান। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে কাজ করছেন একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে। নানা উদ্ভাবনে আগ্রহ তার। বন্যা ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে ছুটে যান সবার আগে। খুব কাছ থেকে দেখেছেন নদীপ্রধান অঞ্চলে হঠাৎ বন্যা কীভাবে এলোমেলো করে দেয় মানুষের জীবন। বন্যাকবলিত মানুষের দুর্দশা কীভাবে কমানো যায় সেটা নিয়ে ভাবতে থাকেন। শেখ সুমনকে সঙ্গে নিয়ে তৈরি করলেন ‘ইমারজেন্সি রেসপন্স ডিভাইস’। আবু সুফিয়ান বলেন, ‘এ যন্ত্রটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেলেই সতর্কবার্তা ও মোবাইল কল দিয়ে জানিয়ে দেবে ওই অঞ্চলে বসবাসকারীদের। সঙ্গে জানিয়ে দেবে কোথায় আছে আশ্রয় কেন্দ্র। কমবে মানুষের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা।’ এ ছাড়া এ যন্ত্রটি নদীর পানির পিএইচ ও লবণাক্ততার মাত্রা জানিয়ে দেবে নদীপাড়ের মানুষকে। পিএইচ ও লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে গেলে ওই পানি যেন কৃষিকাজে, মাসিক চলাকালে নারীরা ব্যবহার না করেন তা-ও জানিয়ে দিতে পারবে।
অভিনব উদ্ভাবন
ঢাকা (দক্ষিণ)
আমিনুল ইসলাম ও ফাইজা জাহিন
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষে কাজ করেছেন দেশের শীর্ষ কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে। দারাজ বাংলাদেশে কর্মকালীন আমিনুল ইসলাম অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তার কো-ফাউন্ডার ফাইজা জাহিনকে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘আয় করি ডিজিটাল লিমিটেড’। তাদের ওয়েবসাইট ও অ্যাপ দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে লাভবান হয়েছেন দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ক্রেতা-বিক্রেতা। এই অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানান উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম। ‘আয় করি’ দেশের প্রথম ক্যাশব্যাক ও অ্যাফিলিয়েট অনলাইন মার্কেটপ্লেস। এখানে একজন ক্রেতা যেমন কেনাকাটা শেষে প্রযোজ্য হারে ক্যাশব্যাক পাবেন তেমনি একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার (বিপণনকারী) তার ব্র্যান্ডের প্রচার চালিয়ে কমিশন পাবেন।
চট্টগ্রাম
অমিত দাশ
নিজস্ব প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগিয়ে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল তৈরি করেছেন অমিত দাশ ও তার দল। গড়ে তুলেছেন পিঅ্যান্ডএ মোটর কোম্পানি। চট্টগ্রামের নয়াবাজারে রয়েছে তাদের নিজস্ব কারখানা। বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমানোর অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ছে। অমিত দাশের তৈরি বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব অন্যদিকে দামেও সাশ্রয়ী। দেশে ও দেশের বাইরে থেকে সাধারণ ক্রেতা এবং বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারজাতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের মোটরসাইকেল কেনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, কেউ কেউ অর্ডার দিচ্ছেন বলে জানান অমিত দাশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যোগ করে মোটরসাইকেলটির প্রযুক্তিগত উন্নয়নে কাজ করছে তার দল। দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার বিষয়টিকে দিচ্ছেন বাড়তি গুরুত্ব।
নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইকোফেম
উদ্যোগ
খুলনা বিএল কলেজে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল মুকিত অন্তর। বয়স মাত্র ২৩। ছয় বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন ইকোফেম। পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি প্যান্টি তৈরি করে ইকোফেম। কীভাবে এলো এ উদ্যোগ? শুরুর গল্প বেদনাবিধুর। বন্ধুর মায়ের ইউটেরাস ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। তাঁর চিকিৎসায় বন্ধুরা উঠেপড়ে লাগেন। সে সময় জানতে পারেন মাসিককালীন স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এ ধরনের মরণব্যাধির অন্যতম কারণ। সমাজের একটি অংশে এখনো নারীর মাসিক ও এ সময়ে নারীর স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি অবহেলিত। সচেতনতা তৈরিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করতে শুরু করেন তারা। মাসিককালীন স্বাস্থ্যঝুঁকির ব্যাপারে অজ্ঞতা ও বাজারে প্রচলিত স্যানিটারি প্যাড ব্যয়বহুল হওয়ায় এগুলো ব্যবহার করেন না বলে জানান নারীরা। অল্প দামে স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব স্যানিটারি প্যান্টি তৈরির সংকল্প করেন আল মুকিত অন্তর ও তার দল। ইকোফেমের যাত্রা হয় ২০২২ সালের জুনে। তারা কাপড়ের স্যানিটারি প্যাড, প্যান্টি তৈরি করেন। মাত্র ১৭০ টাকায় তিন মাসের জন্য স্যানিটারি প্যাড পাওয়া যায় ইকোফেমে। এগুলো একবার ব্যবহারের পর ভালোভাবে ধুয়ে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য।
এতে খরচ বেঁচে যায় অনেক। পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাড বা পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে বর্জ্য কমানো সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তির এ স্যানিটারি প্যাড পরিবেশদূষণ কমানোর জন্য উন্নত উপকরণ দিয়ে তৈরি হচ্ছে। আল মুকিত অন্তর বলেন, ‘স্যানিটারি প্যাড শুধু একটি পণ্য নয়, এটি নারীর স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও জীবনমান উন্নত করার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর ব্যবহারের ফলে সংক্রমণের ঝুঁঁকি কমে। ইকোফেমের তৈরি স্যানিটারি প্যান্টিগুলো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ও চর্মরোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। কাপড়ের তৈরি হওয়ায় এটি ফেলে দেওয়ার পর পরিবেশদূষণের আশঙ্কা নেই।’ জিপি এক্সিলাটর টিম নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে আল মুকিত অন্তরের এ উদ্যোগের স্বীকৃতি দিয়েছে।
দেশজুড়ে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ
ময়মনসিংহ থেকে সেরা হয়েছেন মাহমুদুল হাসান রাফা। তিনি ‘স্বচ্ছ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। বাঁশ ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ দিয়ে তৈরি করছেন টুথব্রাশ। এ ব্রাশের ভিতরে রয়েছে বীজ। ব্যবহার শেষে ব্রাশটি ফেলে দিলে পরিবেশ পাবে নতুন প্রাণ, শুরু হবে নতুন গাছের জীবন। রংপুরের টুটুল ও ফাহাদ আহমেদ গড়েছেন কৃষকের স্কুল। কৃষি বিষয়ক তথ্য সহজলভ্য করা, কৃষকের দক্ষতা উন্নয়নে এ স্কুলটি গড়ে তোলেন তারা। খেলবো ডট কম দেশের প্রথম অনলাইন স্পোর্টস প্ল্যাটফর্ম। চট্টগ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা সাজ্জাদ এটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। স্পোর্টস ভেন্যু বুকিং এবং স্পোর্টস ইভেন্ট আয়োজনে উল্লেখযোগ্য প্ল্যাটফর্ম এটি। কক্সবাজারের ‘দরিয়া’ টিমে রয়েছেন শায়ান্তন ভট্টাচার্য, অতনু দাশ জয় ও জয়পাল। আকর্ষণীয় ও ব্যবহারকারীর চাহিদা, ডিজাইন অনুযায়ী জার্সি বানিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। পাবনা থেকে অহিদুর রহমান কাজ করছেন জ্বালানি নিয়ে। প্রকৃতি যখন পলিথিনের বিষে বিষাক্ত তখন তিনি মনোযোগ দিয়েছেন ফুয়েল প্রোডাকশনে। পলিথিন প্রক্রিয়াজাত করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারে তার অভিনব কৌশল ও আইডিয়া অনেকের নজর কেড়েছে। নাটোর জেলা থেকে সেরা উদ্যোক্তা হয়েছেন সাব্বির আহমেদ সুমন ও শাহিদা আফরিন। তারা গড়ে তুলেছেন এআই বাংলাদেশ। তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট মেন্টর শিশুদের শিখন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যশোরের ইব্রাহিম মোল্লা, কাজী আরেফিন জামিল বানিয়েছেন ‘স্লিপ চার্জ’। এটি মোবাইল ফোন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বা চার্জের প্রয়োজন হয় এমন যে কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সুরক্ষা দেবে। প্রয়োজনীয় চার্জ শেষে এ যন্ত্র অটোমেটিক চার্জ নেওয়া বন্ধ করতে পারে। কুষ্টিয়ার তাহসিন আহাম্মদ ‘বল ট্র্যাকার’ নামে একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছেন। এটি খেলার কমেন্ট্রি, স্কোর সরাসরি অ্যানিমেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করে দর্শককে অনলাইনে খেলা দেখার আনন্দ দেবে। হীরক শেখ, সাভার থেকে সেরা উদ্যোক্তা হিসেবে জয়ী হন। তার টেক প্ল্যাটফর্মের নাম ‘ক্লিয়ার কনসেপ্ট’। অনলাইনে রোগীদের সুচিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণে তথ্য, পরামর্শ প্রদান করে এ প্ল্যাটফর্মটি। বিশেষ হুইলচেয়ার রোবোএইড তৈরি করেছেন সাতক্ষীরার খান প্রিন্স ইয়াসির আরাফাত। শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি মানুষের জন্য এটি বানিয়েছেন তিনি। এটি দামে সাশ্রয়ী ও ব্যবহারকারীর জন্য বিশেষভাবে তৈরি। ঢাকা উত্তর থেকে বিজয়ী হয় ‘সাউন্ড ভিশন’ টিম। ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস)-এর ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি) এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ (সিএসই) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্মার্ট চশমা উদ্ভাবন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বর্ণাঢ্য উদ্যাপন
২০ জেলার সেরা উদ্যোক্তাদের প্রত্যেকের হাতে ১ লাখ টাকার চেক ও স্মারক তুলে দেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (সিসিএও) তানভীর মোহাম্মদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্মার্ট তরুণদের স্মার্ট উদ্যোগ খুঁজে বের করতে দেশজুড়ে জেলায় জেলায় বুটক্যাম্পের আয়োজন করে জিপি এক্সিলারেটর। সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন ও উদ্যোগ নিয়ে বুটক্যাম্পে এসেছিলেন কয়েক হাজার তরুণ-তরুণী। সেরা হন ২০ জন।
রাজশাহী
সায়েম বিন ইসলাম
সায়েম বিন ইসলাম নিয়ে এসেছিলেন থ্রিডি প্রিন্টার ‘টেকনাউরেন’। প্রোটোটাইপ এ থ্রিডি প্রিন্টার যে কোনো ডিজাইনে তৈরি করতে পারে কাক্সিক্ষত পণ্য। তিনি জানালেন, কীভাবে এ প্রযুক্তি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায় সেটা নিয়ে কাজ করছেন। ভেন্ডিং মেশিনের মতো এ যন্ত্রটি যে কেউ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন।
ফরিদপুর
ডা. আরমান হোসেন
স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সংস্থা ফরিদপুরের ‘মেডিকেল হোম সার্ভিস’। যেখানে মানুষ এক ফোনে ঘরে বসে পাচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবা। করোনাকালে কঠিন বাস্তবতার শিক্ষা থেকেই এ উদ্যোগ নেন ডা. আরমান হোসেন। ৩০ সদস্যের একদল তরুণ স্বাস্থ্যকর্মী ও অভিজ্ঞ নার্সদের নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন রোগীর দোরগোড়ায়।
নরসিংদী
আতিকুর রহমান ও সাব্বির হোসেন
হাকলবেরি ন্যাচারাল বিডি গড়ে তোলেন দুই তরুণ। অর্গানিক প্রসাধনী ও হ্যান্ডমেড সাবান তৈরি করছেন তারা। সাব্বির হোসেন জানালেন, প্রাকৃতিক উৎস থেকে পাওয়া তেল ব্যবহার করে এসব সাবান তৈরি হয়। ত্বকের সুরক্ষা ও উপকারের জন্য এতে মেশানো হয় দারচিনি, তুলসী ইত্যাদি। বর্তমানে চার ধরনের সাবান ও অ্যারোমা বাজারজাত করছেন তারা।
সিলেট
মাহবুব আহমেদ চৌধুরী
নারীর মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করছে ‘প্রীতিলতা’। মাহবুব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘স্কুল, অফিস ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আমাদের আইওটি বেসড ভেন্ডিং মেশিন ব্যবহার করে স্যানিটারি ন্যাপকিন, টেম্পুন নিতে পারেন নারীরা। এ ছাড়া একটি মোবাইল অ্যাপ উন্নয়নে কাজ করছি যা ব্যবহার করে নারীরা ব্রেস্ট ক্যান্সারসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসেবা, পরামর্শ ও তথ্য পাবেন।’