রাজধানীর পল্লবীতে ছিনতাইয়ের অভিযোগে গণপিটুনিতে হৃদয় মিয়া (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঈদের আগের দিন (রবিবার রাতে) মিরপুর ১২ নম্বর মেট্রো স্টেশনের নিচে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, একটি প্রাইভেট কার হৃদয়ের প্রাইভেট কারটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে ওই প্রাইভেট কার চালককে ধরতে হৃদয় ধাওয়া করে। কিন্তু ওই প্রাইভেটকার চালক হৃদয়কে (প্রাইভেট কার চালক) ছিনতাইকারী বলে চিৎকার করতে থাকে। পরে জনতা হৃদয়কে গণধোলাই দেয়। তবে পুলিশ বলছে, স্টেশনের নিচে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনতাই করতে গিয়ে জনতার হাতে গণধোলাইয়ের শিকার হন হৃদয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হৃদয় মিয়ার স্ত্রী প্রিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মিরপুর-১২ মেট্রো স্টেশনের নিচে বসে থাকার সময় হঠাৎ পেছন থেকে আসা একটি প্রাইভেট কার হৃদয়ের গাড়ির দরজা এবং লুকিং গ্লাসে ধাক্কা দিয়ে সামনে চলে যায়। তিনিও ওই প্রাইভেট কারটির পেছনে ধাওয়া করেন। একটু সামনে গিয়ে প্রাইভেট কারটিকে থামিয়ে তার চালকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এ সময় হঠাৎ ওই প্রাইভেট কারটির চালক হৃদয়কে ‘ছিনতাইকারী’ আখ্যা দিয়ে চিৎকার শুরু করেন। এরপর আশপাশের লোকজন চলে আসেন। পাশে থাকা সেনাবাহিনীর টহল দলও ঘটনাস্থলে আসে। পরে তারা হৃদয়ের প্রাইভেট কারটি তল্লাশি করে নগদ কিছু টাকা ও মোবাইল ফোন জব্দ করে হৃদয়কে নিয়ে যায়। এদিকে স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার মুঠোফোনে কল করেন স্ত্রী প্রিয়া। এ সময় ফোনটি রিসিভ করে সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা তাকে পল্লবী থানায় আসতে বলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেড় মাসের শিশুকে প্রতিবেশীর কোলে রেখে তখনই তিনি চলে যান পল্লবী থানায়। সেখানে স্বামীকে মেঝেতে কাতরাতে দেখেন তিনি। এরপর ওই সেনা কর্মকর্তা ?‘ছিনতাইকারী’ সন্দেহে তার স্বামীকে আটক করে ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়ে সেখান থেকে বিদায় নেন।
স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে প্রিয়া তখন পুলিশ কর্মকর্তাকে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, মামলা না দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে থানার এসআই আশরাফুল ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন প্রিয়ার কাছে। এর মাঝে আটক হৃদয়কে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে আবার থানায় এনে নির্যাতন করা হয় বলে প্রিয়া দাবি করেন। অবস্থা কিছুটা খারাপ হলে হৃদয়কে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখান থেকেও আবার থানায় আনা হয়। রবিবার দিনভর এসব চলতে থাকে। এর ফাঁকে প্রিয়া ২০ হাজার টাকা জোগাড় করে থানার এসআই আশরাফুলের কাছে দেন। এরপর ঈদের দিন সকালে তার স্বামীকে ছেড়ে দেওয়া হবে আশ্বাস দেওয়া হলে প্রিয়া বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু হঠাৎ সোমবার ঈদের দিন ভোরে থানা থেকে ফোন করে প্রিয়াকে দ্রুত থানায় আসতে বলা হয়। প্রিয়া বলেন, থানায় গেলে এসআই আশরাফুল আমার কাছে ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বলেন, ?আপনার আর্থিক অবস্থা ভালো না। আপনার স্বামী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আছে। সেখানে গিয়ে তাকে চিকিৎসা করান। এটা শুনে আমি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার স্বামী আর বেঁচে নেই। তার (হৃদয়ের) লাশ ফেলে রাখা হয়েছে।