আর্জেন্টিনার বন্দরনগরী বাহিয়া ব্লাঙ্কায় ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন দুই তরুণী। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, আর্জেন্টিনার কর্তৃপক্ষ রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে। ডুবুরিরা পানিতে ভেসে যাওয়া ওই দুই তরুণীর সন্ধান করছেন বলেও জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের দক্ষিণে অবস্থিত এবং দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই বন্দর নগরীতে গত শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সাধারণত এক বছরের সমান এই বৃষ্টিপাতের ফলে অসংখ্য পাড়া মহল্লা এবং রাস্তাঘাট দ্রুত পানিতে ডুবে গেছে।
গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র ফেদেরিকো সুসবিয়েলস বলেন, বন্যার ফলে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। তিনি এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনুসন্ধান প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তিনি জানান। -এএফপি
ইতোমধ্যে, এক এবং পাঁচ বছর বয়সি দুই বোনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা জাতিকে নাড়া দিয়েছে। রবিবার কর্তৃপক্ষ এই মর্মান্তিক ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাদেশিক নিরাপত্তামন্ত্রী জাভিয়ের আলোনসো স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিখোঁজ মেয়েরা তাদের মায়ের সঙ্গে একটি ভ্যানের ছাদে ছিল, ঠিক তখনই পানির ঢেউ তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তিনি রেডিও মিটার আউটলেটকে বলেন, ডুবুরিরা সেই এলাকায় অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে, যেখানে এক মিটারেরও বেশি পানি রয়ে গেছে। গত শুক্রবার ঝড়ের কারণে আশপাশের উপকূলীয় এলাকার বেশির ভাগ অংশ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে রাস্তায় প্রচুর পরিমাণে পানি জমে যাওয়ার কারণে বাহিয়া ব্লাঙ্কোর নগর কর্মকর্তারা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। সরকার ১০ বিলিয়ন পেসোর জরুরি পুনর্গঠন সহায়তা অনুমোদন করেছেন। বাহিয়া ব্লাঙ্কা অতীতে আবহাওয়া-সম্পর্কিত দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি ঝড়ের আঘাতে ১৩ জন প্রাণ হারায়। এর ফলে ঘরবাড়ি ধসে পড়ে এবং ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়।