ফিলিস্তিনের গাজা এবং লেবাননের বিভিন্ন বাড়ি থেকে চুরি করা মূল্যবান জিনিসপত্র বিক্রির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে ইসরায়েলি সেনারা। হিব্রু ভাষার সংবাদপত্র হামাকোম হাচিম বেগেহিনম (নরকের সবচেয়ে উষ্ণ স্থান)-এর এক অনুসন্ধানে এমনটা উঠে এসেছে।
তুর্কিভিত্তিক টিআরটি গ্লোবাল জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনা এবং কমান্ডারদের কিছু ‘সাক্ষ্য’ উদ্ধৃত করা হয়েছে গত ৪ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে। তারা অবরুদ্ধ গাজায় লুটপাট প্রত্যক্ষ করার বিশদ বিবরণ দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, ‘এত লুটপাট দেখেছেন যে, এটি তাদের আর অবাক করে না।’ হামাকোম হাচিম বেগেহিনম সংবাদপত্রের মতে, চুরি করা জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং মূল্যবান গয়না। এ ছাড়া কম্পিউটার, স্মার্টফোন, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, আসবাবপত্র, পোশাক এবং প্রসাধনীও লুট করা হয়েছে। কেফিয়া, গালিচা এবং তসবিহ পুঁতি পর্যন্ত নিয়ে যায় ইসরায়েলি সেনারা। পরবর্তীতে তারা লুট করা জিনিসপত্র বিক্রির জন্য ফেসবুক মার্কেটপ্লেসসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। তবে বেশির ভাগ লেনদেন ব্যক্তিগত টেলিগ্রাম গ্রুপগুলোতে হয়, যেগুলো শুধু আমন্ত্রণের মাধ্যমে অ্যাক্সেসযোগ্য। কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর লোকেদের গ্রুপগুলোতে নেওয়া হয়। এগুলো সেই সব গ্রুপের মতো, যেখানে মাদক এবং অস্ত্র ব্যবসা করা হয়। নাহাল ব্রিগেডের একজন সৈনিকের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাটুন কমান্ডার এবং আমি সেনাদের ব্যাগগুলো দেখতাম, তারা কী চুরি করেছে তা দেখার জন্য। সেখানে কেফিয়া, গালিচা, যা কিছু পারে প্রত্যেকেই কিছু না কিছু নিয়ে যেত।
আরেকজন ইসরায়েলি সৈনিক সংবাদপত্রটিকে বলেন, ‘আমরা কেবল অস্ত্র খোঁজার জন্য অভিযানে নামতাম, আর লোকেরা উন্মত্তভাবে প্রার্থনার পুঁতি খুঁজছিল। তারা সেগুলো সংগ্রহ করত, তুলনা করত...। একজন লোক প্রার্থনার পুঁতি খুঁজে বের করার জন্য বাচ্চাদের ঘরও তছনচ করত।’