মহাবীর আলেকজান্ডারের যুগে অগ্রসর দেশ গ্রিসের মানুষ জানত গঙ্গারিড তথা আজকের বাঙালি জাতির কথা। বাঙালির বীরত্বকে সমীহের চোখে দেখেছেন গ্রিক বীর আলেকজান্ডার। রোমানরাও পরিচিত ছিল এ দেশের মানুষের শৌর্যবীর্যের সঙ্গে। সেই প্রাচীনকালে বাংলার সন্তান অতীশ দীপঙ্করের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল ধারেকাছের সব দেশে। এ মহাপন্ডিতের জ্ঞানালোকে আলোকিত হয়েছে প্রাচীন চীন। তিব্বতের অধিবাসীরা তাঁকে ভগবান বুদ্ধের পর শ্রেষ্ঠ গুরুর সম্মান দিয়েছেন। চীনের তিব্বতের লামারা এখনো এ মহাজ্ঞানীর উত্তরসূরি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন।
পাল আমলে পদ্মা মেঘনা যমুনা অববাহিকার এ দেশ শাসন করেছেন শশাঙ্ক ও ধর্মপালের মতো শাসকরা। রাজা ধর্মপালের রাজ্যসীমা একদিকে তিব্বত অন্যদিকে পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। প্রাচীন বাংলার যুবরাজ বিজয় সিংহ জয় করেন দ্বীপদেশ লঙ্কা। তাঁর নামানুসারে সে দেশের নাম হয় সিংহল। যে দেশ এখন শ্রীলঙ্কা নামে পরিচিত।
মধ্যযুগে বাংলাদেশ ছিল এক সমৃদ্ধ জনপদ। মরক্কোর বিশ্বখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা সারা বিশ্ব ঘুরে বাংলাদেশে এসে মন্তব্য করেন- ‘আমি পৃথিবীর বহু দেশ ঘুরেছি কিন্তু পণ্যের এমন প্রাচুর্য ও সস্তা দর আর কোথাও দেখিনি।’ বাংলাদেশের বন্দরে সে সময় চীন, মালয়েশিয়া, আরবসহ বিভিন্ন দেশের জাহাজ আসত পণ্য নেওয়ার জন্য। বাংলাদেশে তৈরি হতো মসলিন নামের সূক্ষ্ম বস্ত্র। মধ্যযুগে বাংলাদেশ দুনিয়াজুড়ে ‘মসলিনের দেশ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। ঢাকাই মসলিনসহ এ দেশের তৈরি বস্ত্র রপ্তানি হতো চীন ও রোম সাম্রাজ্যে। টলেমির ভূগোল ও চীনা পর্যটকদের বর্ণনায় মসলিনের প্রশংসা করা হয়েছে।
আজ থেকে ৬০০-৭০০ বছর আগে সাহায্যের জন্য আরব দেশগুলো বাংলাদেশের দিকে তাকিয়ে থাকত। সে সময় আরব থেকে এ দেশে লোকজন আসত রুটি রুজির খোঁজে। আজ যারা বাঙালিদের মিসকিন বলে নাক ছিটকায় তাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সাহায্যের জন্য মুখিয়ে থাকত। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের আমলে গরিব আরববাসীর জন্য কয়েকবার খররাতি সাহায্য পাঠিয়েছে ধনী দেশ বাংলাদেশের সুলতান। ১৩৮৯ থেকে ১৪০৯ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আরবে পাঠানো হয়েছে বিপুল অর্থ। মক্কার তৎকালীন শাসক হাসান বিন ওজলান সে অর্থের একাংশ নিজের জন্য রেখে বাকি অংশ মক্কা ও মদিনার গরিবদের মধ্যে বণ্টন করেন। মক্কার বাব-ই উম্মে হানিতে ১২ হাজার স্বর্ণমুদ্রা ব্যয়ে মাদরাসা ও সরাইখানা নির্মিত হয় বাংলার সুলতানের পাঠানো অর্থে। মদিনার হুন-আল-আতিকে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অর্থে গড়ে ওঠে বিশাল মাদরাসা। আরবদের পানির কষ্ট লাঘবে আরফা খাল খননে ৩০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দান করেন বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। মাদরাসাশিক্ষক ও ইতিহাসবিদ তকি-আল ফসিহ ইবনে হাজাব, আল সখাভি, কুতুবুদ্দিন হানাফির লেখা গ্রন্থে ধনী দেশ বাংলা থেকে পাঠানো এসব সাহায্যের কথা উল্লেখ রয়েছে।
॥ দুই ॥
সেই প্রাচীন ও মধ্যযুগে বাংলা ছিল এক সম্পদশালী জনপদ। বাংলার অফুরন্ত সম্পদ এ দেশের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এ সম্পদ লুণ্ঠনে কখনো এসেছে কর্ণাটক থেকে সেনরা, কখনো এসেছে পাঠান ও মুঘলরা। তবে তাদের সবাই এ দেশকে নিজের দেশ হিসেবে বেছে নিয়েছে। মাটি ও মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এ দেশের সন্তান হিসেবে নিজেদের পরিচয় গড়ে তুলেছে। সপ্ত ও অষ্টাদশ শতাব্দীতে এ দেশে নোঙর ফেলে পর্তুগিজ, ডাচ, ফরাসি ও ইংরেজ বণিকরা। বাংলার নবাবের কাছ থেকে ব্যবসার অনুমতি পায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ইউরোপীয় বণিকরা ব্যবসায় সন্তুষ্ট থাকেনি। বাংলার মসনদের দিকেও তারা হাত বাড়ায়।
নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে তারা বেছে নেয় বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রধান সেনাপতি ও উজিরে আজম মীর জাফর আলী খানকে। নবাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে দুঃশাসনের। তাঁকে সরিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন ইংরেজ বণিক ও তাদের এদেশীয় সহচররা। জগৎশেঠ, ইয়ার লতিফ, রায় দুর্লভসহ সুশীল সমাজের আরও অনেকেই অযোগ্য নবাবকে সরানোর ‘মহৎ কর্মে’ যোগ দেয়।
১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে শুরু হয় নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হটানোর যুদ্ধ। সে যুদ্ধে নিভে যায় বাংলার স্বাধীনতার সূর্য। পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলার সিংহাসনে বসেন মীরজাফর আলী খান। তবে কলকাঠি ছিল ইংরেজদের হাতে। বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ইংরেজদের আগ্রহ উথলে ওঠার কারণটি সহজেই বোধগম্য। অষ্টাদশ শতাব্দীতে স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ অ্যাডাম স্মিথ তাঁর লেখায় সেই যুগে বাংলাদেশকে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসাবাণিজ্যের জন্য উদগ্রীব ছিল সে সময়কার ইউরোপীয় দেশগুলো। ১৭০৩ সালে প্রসিদ্ধ মানচিত্রশিল্পী থর্নটন সে সময়ের বাংলাদেশের মানচিত্র প্রকাশ করেন। তিনি অভিহিত করেন, ‘দি রিচ কিংডম অব বেঙ্গল’। ১৭৫৭ সালে ইংরেজরা এ দেশ দখল করে সুশাসন কায়েমের নামে। তাদের সুশাসনে সোনার বাংলা মাত্র ১৩ বছরের মধ্যে শ্মশানে পরিণত হয়। দেখা দেয় খাদ্যাভাব। ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দ অর্থাৎ বাংলা ১১৭৬ সনে দুর্ভিক্ষে এ দেশে এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ১ কোটি মানুষ অনাহারে মারা যায়। দুর্ভিক্ষে যখন একের পর এক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে তখনো ইংরেজরা এ দেশ থেকে জোর করে রাজস্ব আদায় করেছে। দুর্ভিক্ষের পরের বছর আগের বছরের চেয়ে ৫ লাখ ২২ হাজার টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়। আজকের মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকার সমান।
বাংলাদেশে লুটপাট করা সম্পদে সমৃদ্ধ হয় লন্ডন। এমনকি আজকের দুনিয়ার সবচেয়ে ধনী দেশ আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল হিল গড়ে ওঠার পেছনে বাংলাদেশ থেকে লুট করা সম্পদের ভূমিকা ছিল। বাংলাদেশে তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন। গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্ণওয়ালিশ। তিনি ছিলেন চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের রূপকার। তাঁর অন্যতম সহযোগী ছিলেন টমাস ল নামের এক সিভিলিয়ান। আমেরিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ওয়াশিংটনের আত্মীয় ছিলেন তিনি। টমাস ল এ দেশে থাকতে সীমাহীন লুটপাটের আশ্রয় নেন। সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন তিনি। দেশে ফেরার সময় নিয়ে যান বিপুল পরিমাণ সোনা হীরা মণিমুক্তা। পথে ইয়ামেনের এডেন বন্দরে ভিড়ে তাঁর জাহাজ। সেখানে শুনতে পান বাংলা বিহার উড়িষ্যায় কর্মরত ইংরেজ অফিসারদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সম্পর্কে বিলেতে তদন্ত শুরু হয়েছে। শাস্তির সম্মুখীনও হয়েছে অনেকে। টমাস ল প্রমাদ গোনেন। তিনি দেশে ফেরার বদলে নেমে যান এডেন বন্দরে। ওঠেন আমেরিকাগামী এক জাহাজে। আজ যেখানে ক্যাপিটল হিল সেই জায়গাটি পছন্দ হয় তাঁর। সেখানেই বসতি গড়ে তোলেন টমাস ল। একটি চিনির কলও তিনি স্থাপন করেন। পরবর্তীকালে ক্যাপিটল হিলের বিশাল সম্পত্তি তিনি মার্কিন সরকারের কাছে বিক্রি করেন। সেখানেই স্থাপিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ইংরেজরা ভারতীয় উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায়। বাংলাদেশ পাকিস্তানের অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। পাকিস্তান আন্দোলনে বাঙালি মুসলমানরাই মূলত নেতৃত্ব দেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার নেতৃত্বদানকারী মুসলিম লীগের জন্ম ঢাকায় নবাব সলিমুল্লাহর সভাপতিত্বে। বাংলার মুসলমানরা একাট্টা হয়ে ভোট দেয় পাকিস্তানের পক্ষে। কিন্তু স্বাধীন পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও বাঙালিরা ছিল উপেক্ষার শিকার। পাকিস্তানের ২৩ বছরেও বাংলাদেশ নির্মম শোষণের শিকার হয়। পাকিস্তানের প্রধান রপ্তানিপণ্য ছিল পাট। এ পাট উৎপাদিত হতো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশে। পাট রপ্তানির টাকা জমা হতো করাচি, লাহোর, রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে। পাকিস্তানের জাতীয় বাজেটের এক বড় অংশ ব্যয় হতো সেনাবাহিনীর পেছনে। অথচ সেনাবাহিনীতে বাঙালির সংখ্যা ছিল শতকরা ১০ ভাগেরও কম। স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরও ছিল পাকিস্তানের পশ্চিম অংশে। কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ সব পদ ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের দখলে। এ শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাঙালিরা। শুরু হয় স্বাধিকার সংগ্রাম। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিতে অস্বীকার করে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের আঁধারে তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঙালির ওপর। শুরু হয় গণহত্যা। এ কঠিন সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়।
শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়। ৩০ লাখ মানুষের আত্মোৎসর্গের বিনিময়ে অর্জিত হয় মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। বলা যায় ধ্বংসস্তূপের ওপর ঘটেছে বাংলাদেশের অভ্যুদয়। স্বাধীনতার পর বিরাজমান দুরবস্থা দেখে এ দেশের শত্রুরা ব্যঙ্গ করে বলত, এটি একটি তলাবিহীন ঝুড়ি। বাংলাদেশ যে তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, এ সত্যটি প্রমাণ করেছে এ দেশের মানুষ।
॥ তিন॥
রূপকথার ফিনিক্স পাখি ভস্মের মধ্য থেকে উড়াল দেওয়ার কৃতিত্বের অধিকারী। বাংলাদেশের মানুষকে তুলনা করা যায় এ পাখির সঙ্গে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে ২০২১ সালে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে বিস্ময় বলে স্বীকার করে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং বিশ্বের সেরা অর্থনীতিবিদরা। স্বাধীনতার সময় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ব্যবধান ছিল আকাশপাতাল। ৫০ বছর পর বাংলাদেশ অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে অতিক্রম করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। এমনকি বহু ক্ষেত্রে ভারতকেও অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকার স্বনামখ্যাত কলামিস্ট পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী নিকোলাস ক্রিস্টফ ২০২১ সালের ১০ মার্চ নিউইয়র্ক টাইমসে লেখেন, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সংবাদ কাভার করেছিলেন তিনি। ১ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল ওই ঘূর্ণিঝড়ে। তাঁর প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে হতাশাই প্রকাশ করেছিলেন। ৫০ বছর আগে গণহত্যা ও অনাহারের মধ্যে বাংলাদেশের জন্ম। হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই বাংলাদেশ অবিশ্বাস্য উন্নতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে অর্জিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী করোনা মহামারির চার বছর আগে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৭ থেকে ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা চীনের চেয়েও এগিয়ে। বাংলাদেশ ছিল একসময় হতাশাগ্রস্ত দেশ। এখন কীভাবে উন্নতি করতে হয় বিশ্বকে তারা শেখাতে পারে।
বাংলাদেশ আর মাত্র ৬ বছর পর ২০৩১ সালে ৬০ বছর অর্থাৎ হীরকজয়ন্তী পালন করবে। তার আগে আগামী বছর স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে পদার্পণ করার কথা ১৮ কোটি মানুষের এ জাতির। বাংলাদেশ গত ৫৪ বছরে ইতিবাচক যা কিছু অর্জন করেছে তার সবই অর্জিত হয়েছে রাজনৈতিক সরকারের আমলে। আমাদের স্বাধীনতা থেকে উন্নয়ন সবকিছুর পেছনে রয়েছে রাজনীতিকদের পয়মন্ত হাত। আমাদের সুশীলদের অবদান এ ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ। ওয়ান- ইলেভেনে সুশীল সরকার দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার বদলে রূপকথার ভূতের মতো যে পেছনের দিকে হেঁটেছে এটি একটি ওপেন সিক্রেট। কথায় বলে, ঘর পোড়া গরু সিদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। জুলাই গণ অভ্যুত্থান দেশবাসীর মধ্যে যে আশাবাদ সৃষ্টি করেছিল সুশীল শাসনে তা ভেস্তে যেতে বসেছে। স্বাধীনতার ৫৪তম বার্ষিকীতে আমাদের শপথ হোক অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দ্রুত দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়নের জন্য যার কোনো বিকল্প নেই।
♦ লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক
ইমেইল : sumonpalit@gmail.com