একজন মানুষের জীবনে তিনটি জিনিস প্রয়োজন বই, বই এবং বই- এ উক্তিটি করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য রুশ লেখক লিও তলস্তয়। সচেতন মানুষমাত্রই অবগত আছেন তাঁর এই উক্তিটি বর্তমান সময়ে কতটা প্রণিধানযোগ্য। বইয়ের কথা উঠলে প্রসঙ্গক্রমেই চলে আসে বইমেলার কথা। বইমেলা নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। কারণ এ উৎসবটি মানুষের মনে সাধারণত বই পড়ার গুরুত্ব ও আগ্রহ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে বই পঠনে পাঠকের হৃদয়ে প্রোথিত হয় জ্ঞানের আলো। ফরাসি দার্শনিক জ্যাঁক দারিদা যথার্থই বলেছেন, ‘একটি ভালো বই পড়া মানে হচ্ছে বিগত শতাব্দীর মহৎ লেখকের সঙ্গে আলাপ করা।’ বই পড়ার গুরুত্ব যে কতটুকু সেটি ইতিহাসের আলোকে দু-একটি ঘটনার মাধ্যমে অনুধাবন করা যেতে পারে। বড় বড় সাহিত্যিক, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী মাথা গুঁজে বই পড়বেন, সেটা অতি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যখন রাজাগজা, সম্রাট, বণিক ও রাজনীতিবিদরা গুরুত্বের সঙ্গে গ্রন্থ পাঠ করেন তখন বুঝতে হবে বইয়ের মধ্যেই নিহিত আছে পৃথিবীর প্রায় সব সমস্যার সমাধান। দিগি¦জয়ী আলেকজান্ডার ছিলেন একজন নিবিষ্ট পাঠক। প্রাতঃস্মরণীয় দার্শনিক এরিস্টটল ছিলেন তাঁর শিক্ষক, সে কারণেই বোধ করি বইয়ের গুরুত্ব তিনি কিশোর বয়সেই উপলব্ধি করেছিলেন। আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট জীবনে বহু বই পড়েছেন। কী কী বই পড়েছেন তিনি সে বিষয় নিয়ে পৃথক একটি প্রবন্ধ লেখা যেতে পারে। তবে যে বইটা তিনি বারবার পড়তেন, সেটা ছিল হোমারের ‘ইলিয়াড’। আলেকজান্ডার পারস্য জয় করেছিলেন ৩৩৪ খ্রিস্টপূর্বে। তো হয়েছে কী, যেদিন ভোরে পারস্য সম্রাট দারিয়াসের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কথা সেদিন সকালে পারমিনিয়ন নামে তাঁর এক সেনাপতি আলেকজান্ডারের তাঁবুতে গিয়ে দেখতে পেলেন যে তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। পারমিনিয়ন তাঁকে ডেকে তুলে বললেন, ‘একি আলেকজান্ডার, তুমি দেখছি নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাচ্ছ। অথচ দুশ্চিন্তায় সারা রাত আমাদের ঘুম নেই!’ পারমিনিয়নের কথার প্রতি উত্তরে আলেকজান্ডার মৃদু হেসে বললেন, ‘এ যুদ্ধে জয় আমাদের সুনিশ্চিত।’ পারমিনিয়ন বললেন, ‘সেটা কীভাবে? পারস্যের আড়াই লাখ সৈন্যের বিরুদ্ধে আমাদের সৈন্যসংখ্যা মাত্র ৫০ হাজার।’ আলেকজান্ডার অম্লান বদনে বললেন, ‘ইলিয়াডের সব যুদ্ধকৌশল আমার মুখস্থ। পারস্য সম্রাট দারিয়াস নিশ্চয়ই হোমারের ইলিয়াড পড়েনি।’
সম্রাট দারিয়াসের পরিত্যক্ত শিবির ও অঞ্চল থেকে যেসব মহামূল্যবান জিনিসপত্র আনা হয়েছিল তার মধ্যে একটি অদ্ভুত সুন্দর ছোট বাক্সও ছিল। তিনি তাঁর সতীর্থদের জিজ্ঞেস করলেন, এর মধ্যে কী উপযুক্ত জিনিস রাখা যেতে পারে। বিভিন্ন জিনিসপত্রের নাম প্রস্তাব করা হলো। কিন্তু তিনি বললেন যে মহাকাব্য ইলিয়াডই হচ্ছে প্রকৃত উপযুক্ত বস্তু যা এর মধ্যে রাখা সবচেয়ে উত্তম হবে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন আলেকজান্ডারের যুদ্ধ পরিচালনার বিষয়ে মহাকবি হোমারের এ মহাকাব্যটি সাহায্য করেছিল।
মুঘল সম্রাট বাবর, হুমায়ুন ও আকবর- এরা সবাই বই পড়তেন। আকবর ছিলেন অক্ষরজ্ঞানহীন, তবু উপলব্ধি করেছিলেন বইয়ের গুরুত্ব। তিনি জানতেন রাষ্ট্র চালাতে জ্ঞানের বিকল্প নেই। এ জন্য তাঁর সংগ্রহশালায় ছিল প্রায় ২৪ হাজার বই। তিনি নিজে পড়তে জানতেন না বলে অন্যকে দিয়ে পড়াতেন আর নিজে শুনতেন বইয়ের ভিতরকার সেসব মর্মকথা। সম্রাট হুমায়ুনও বই পড়তে ভীষণ ভালোবাসতেন। তাঁর জীবনের সবচেয়ে প্রধান শত্রু শেরশাহ যখন তাঁকে তাড়া করে ফিরছেন বিশাল সৈন্যবহর নিয়ে, তখনো তিনি বই পড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেননি। হাতির পিঠে ছিল তাঁর চলন্ত গ্রন্থাগার। তিনি যেখানেই যান সঙ্গে থাকে তাঁর বইয়ের সংগ্রহশালা। তাঁর ধারণা বই দুঃসময়ে তাঁকে শক্তি ও প্রেরণা জোগাবে। বই থেকেই তিনি পেতে পারেন আত্মরক্ষা ও বিজয়ের সূত্র। ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নেরও ছিল বইয়ের দারুণ নেশা। ভালোবাসতেন সোনার কৌটো থেকে নস্যি নিতে। গরম জলে স্নান করতে আর পছন্দ করতেন ফরাসি এসেন্স। একই সঙ্গে দুরন্ত নেশা ছিল বই পড়ার। সতীর্থরা যখন সুরা আর সুন্দরী নারী আসক্তে মত্ত, তখন কর্সিকা দ্বীপ থেকে আগত অর্ধ ফরাসি ও অর্ধ ইতালিয়ান এ কিশোরটি ডুবে যেতেন বইয়ের মধ্যে। একবার তিনি ফ্রান্স থেকে মিসরে যাচ্ছিলেন যুদ্ধাভিযানে। বেশ কটি জাহাজে তাঁর সৈন্যসামন্ত, সঙ্গে জাহাজ বোঝাই বই। হঠাৎ আকাশ ভেঙে ঝড় উঠল। সমুদ্রে দৈত্যাকৃতির বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়তে লাগল জাহাজে। জাহাজগুলো যেন তখন কলার মোচার মতো অসহায় ও ছন্নছাড়া হয়ে ভাসছে সমুদ্রে। মাঝিমাল্লাদের মধ্যে কেউ কেউ ছুটে এলেন নেপোলিয়নের কাছে, এমন বিপদে কী করণীয় সেটা জানতে। তারা দেখতে পেলেন এমন বিপদেও লণ্ঠন সামনে রেখে একাগ্রচিত্তে বই পাঠে নিমগ্ন নেপোলিয়ন। তারা চেঁচিয়ে বলতে লাগলেন, ‘মহামান্য সম্রাট আমাদের জাহাজগুলো সব ডুবতে চলেছে। এ মুহূর্তে আমাদের কী করণীয় দয়া করে পরামর্শ দিন।’ নেপোলিয়ন ঈষৎ হেসে বললেন, ‘বইয়ের মধ্যে আমি সেই উত্তরটাই খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছি, যা এ মুহূর্তে আমাদের বাঁচার জন্য প্রয়োজন।’ তারপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, ‘দেখ যা কিছু ঘটছে সবই প্রাকৃতিক। এখানে আমাদের কারোরই কিছু করার নেই। ঝড় থেমে গেলে সমুদ্র এমনিতেই শান্ত হয়ে যাবে। তাহলেই আমরা বাঁচতে পারব।’
এবার বইমেলা প্রসঙ্গে আসা যাক। আমাদের একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমাদের এ উপমহাদেশে বইমেলার সংস্কৃতি খুব একটা পুরোনো নয়। এমনকি সমগ্র পৃথিবীতেই বইমেলার সংস্কৃতি খুব একটা বেশি দিনের নয়। এর প্রধান কারণ ১৫ শতকে মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের আগে বই সাধারণত পশুর চামড়া, প্যাপিরাসপাতা কিংবা পাথরের ফলক প্রভৃতি জিনিসপত্রে লেখা হতো এ জন্য বই সে সময় এতটা সুলভ ছিল না। কিন্তু ১৪৫০ সালে জার্মান আবিষ্কারক জোহানেস গুটেনবার্গ মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কার করার ফলে মুদ্রণশিল্পে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসে। পরবর্তীকালে ছাপা হতে থাকে লাখ লাখ বই। ভারতবর্ষে মুদ্রণযন্ত্রের আগমন ঘটে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামার হাত ধরে। তিনি ১৫০২ সালে তাঁর দ্বিতীয় দফা ভারত অভিযানের সময় সঙ্গে করে নিয়ে আসেন জার্মানদের আবিষ্কৃত মুদ্রণযন্ত্র।
ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্যিকভাবে বই ও সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য গোয়াতে ছাপাখানা স্থাপন করেন পর্তুগিজরা ১৫৫৬ সালে। বঙ্গে ছাপাখানা স্থাপিত হতে লেগে যায় আরও ২০০ বছর। ১৭৭৮ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হলো ছাপাখানা। ঢাকায় প্রথম মুদ্রণযন্ত্র স্থাপিত হয় ১৮৪৮ সালে। তবে পূর্ববঙ্গ বা বর্তমানের বাংলাদেশে সৃজনশীল প্রকাশনার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশের অমর একুশে বইমেলা সম্পর্কে বলতে গেলে বলতে হয় বাংলাদেশে বইমেলার বীজ বপন করা হয় ১৯৬৫ সালে। এটি শুরু হয় খুব ছোট্ট পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে। ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়া পত্তন করেন। এ ৩২টি বই ছিল চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই।
এ বইগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি একাই বইমেলা চালিয়ে যান। ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে অন্যরা অনুপ্রাণিত হন। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন। ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে মেলার সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি; এ সংস্থাটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা। ১৯৮৩ সালে কাজী মুহম্মদ মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজনে প্রভূত অবদান রেখেছিলেন। কিন্তু স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা ভবনের সামনে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলে ট্রাক তুলে দিলে দুজন ছাত্র নিহত হন। ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর সেই বছর আর বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। ১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়। সেই ৩২টি বইয়ের ক্ষুদ্র মেলা কালানুক্রমে বাঙালির সবচেয়ে স্বনামধন্য বইমেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলা একাডেমি চত্বরে স্থানসংকুলান না হওয়ায় ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এবার আলোচনা করা যাক বই ফেরিওয়ালাদের কথা। চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে বইমেলা শুরুর আগে বহু প্রকাশক ও বই ব্যবসায়ী বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও স্টিমারে বই ফেরি করে বিক্রি করতেন। এভাবে তাঁরা বইয়ের বাজার তৈরিতে প্রভূত অবদান রেখেছিলেন। এঁদের মধ্যে অনেক বিখ্যাত লেখক, প্রকাশকও ছিলেন। এঁদের কথা বলতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় গজেন্দ্র কুমার মিত্র ও সুমথনাথ ঘোষের কথা। সেসব বিষয় বিস্তারিত লেখা আছে গজেন্দ্রকুমার মিত্রের কাকভূষণ্ডীর আলাপচারিতায়।
গজেনবাবু (গজেন্দ্রকুমার মিত্র) ও সুমথবাবু (সুমথনাথ ঘোষ) ছিলেন বাল্যবন্ধু। দুজনে একই ক্লাসে পড়তেন বালিগঞ্জের জগদ্বন্ধু স্কুলে। দুজনের কারোরই সাংসারিক অবস্থা সচ্ছল ছিল না, কলেজে পড়তে পড়তেই ভাগ্যান্বেষণের চেষ্টা চলেছে, সেই সঙ্গে সাহিত্যচর্চাও। দুজনে মিলে পত্রিকাও বের করেছেন। সুমথবাবুর বেশি উৎসাহ ছিল ছবি আঁকায়। পরে পুরোপুরি তিনিও সাহিত্যচর্চায় নেমে পড়েন। তাঁদের প্রথম ছাপা পত্রিকার নাম ছিল ‘বিজয়’। প্রায় বিনা মূলধনের পত্রিকা। বিজয় পত্রিকাও বন্ধ হতে বিলম্ব হলো না। এই যখন অবস্থা তখন দুই বন্ধু ঠিক করলেন, বাংলার বাইরে নতুন-পুরোনো ভালো ভালো বই নিয়ে গিয়ে বিক্রির ব্যবস্থা করলে কেমন হয়! যেমন ভাবা তেমনি কাজ। তাঁরা দুজনে ট্রাঙ্ক বোঝাই করে নতুন-পুরোনো বাংলা বই নিয়ে বিহারের কতকগুলো শহরে অভিজাত বাঙালিদের বাড়ি বাড়ি হাজির হলেন। অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেল। এ সাড়াতেই ভরসা পেলেন দুই বন্ধু এবং ফেরি করে বিক্রি করতে লাগলেন বই। এবার বিখ্যাত সাহিত্যিক প্রবোধকুমার সান্যালের কথা বলি। তিনিও ফেরি করে গ্রামগঞ্জে বই-পত্রিকা এগুলো বিক্রি করতেন। তিনি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসোপম আত্মজীবনী ‘বনস্পতির বৈঠকে’ লিখেছেন- “সেই সপ্তাহ থেকেই আমি ‘বিচিত্রা’ ফেরি করতে আরম্ভ করেছিলুম। আমি হকার, এ আমার গৌরব।”
সভ্যতার সূচনালগ্নে বইয়ের গুরুত্ব ছিল, বর্তমানে আছে আমার ধারণা ভবিষ্যতেও থাকবে। যদিও প্রাচীন যুগে বইমেলা ছিল না কিন্তু বইমেলার পরিবর্তে লাইব্রেরি ছিল। মিসরের রানি ক্লিওপেট্রার নাম আপনারা নিশ্চই শুনেছেন। তিনি ছিলেন জ্ঞানতাপসী। মোট সাতটি ভাষায় তিনি অনর্গল কথা বলতে পারতেন। চিকিৎসা, জোতির্বিদ্যা, গণিতশাস্ত্র এমন কোনো বিষয় নেই, যা তাঁর অজানা ছিল। বইয়ের প্রতি ছিল তাঁর ভীষণ অনুরাগ। একবার তাঁদের সংগ্রহশালাটি আগুনে পুড়ে যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন বিশিষ্ট গবেষক ও পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। তিনি তাঁর লাইব্রেরি নামক প্রবন্ধে আমাদের জানাচ্ছেন, ‘টলেমিরা সব দেশের বই-ই সংগ্রহ করতেন; মিসরের বইও তারা সংগ্রহ করতেন, হিব্রুদের বইও সংগ্রহ করতেন। তারা বড় বড় পণ্ডিত দেখে লাইব্রেরির অধ্যক্ষ নিযুক্ত করতেন। কেউ কেউ বলেন সেখানে ৪ লাখ বই ছিল, কেউ বলেন সেখানে ৭ লাখ বই ছিল। জুলিয়াস সিজার যখন আলেকজান্দ্রিয়ার নৌকার বহরগুলোতে আগুন লাগিয়ে দেন, তখন সেই আগুনে ওই বড় লাইব্রেরিটিও পুড়ে যায়। সিজারের পর ক্লিওপেট্রার পরম বন্ধু মার্ক এন্টনি এ ক্ষতি পূরণের জন্য ভীষণ ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি করেন কী, তুরস্কের পার্গামম নামে এক জায়গায় এক বিশাল লাইব্রেরি ছিল, সেটাই তুলে এনে ক্লিওপেট্রাকে উপহার দেন। এ উপহার পেয়ে ক্লিওপেট্রার দুঃখ নিশ্চয়ই কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল।’
লেখক : কথাসাহিত্যিক