কুমিল্লার দেবিদ্বারে প্রেমিকের কাছে বিয়ের দাবি করায় এক নারীকে হত্যার পর ব্রিজের নিচে ফেলে রেখা যায় মহিউদ্দিন (৩৫) নামে এক পরকীয়া প্রেমিক।
সোমবার মহিউদ্দিন ও তার সহযোগীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রেমিক মহিউদ্দিন প্রেমিকা শাহনাজকে (৫২) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানিগঞ্জ বাস টার্মিনাল থেকে মহিউদ্দিনকে তার সহযোগীসহ গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ইউছুফপুরে কুমিল্লা সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের একটি ব্রিজের নিচে থেকে হাত-পা ও চোখ-মুখ বাঁধা অবস্থায় শাহনাজ বেগমের মরদেহ উদ্ধার করি। এ হত্যার ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে সবুজ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূল আসামি ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছি।
শাহনাজ বেগম মুরাদনগর উপজেলার বাখরনগর গ্রামের মো. শাহ আলমের স্ত্রী। শাহনাজের এক স্বামী, চার পুত্র ও এক কন্যা রয়েছে। শাহনাজের স্বামী দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে শয্যাসায়ী।
প্রেমিক মহিউদ্দিন মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জর গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি কুমিল্লা-কোম্পানীগঞ্জ সড়কে ফারজানা ট্রান্সপোর্ট নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের চালক ছিলেন। এ ঘটনায় মহিউদ্দিনের সহযোগী সাত্তারকে গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আসামির জবানবন্দীর বরাতে পুলিশ জানায়, শাহনাজ বেগম মহিউদ্দিনের সাথে বছর কয়েক আগে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে যান। তাদের দুজনেরই পরিবার রয়েছে। সম্প্রতি শাহনাজ বেগম মহিউদ্দিনকে বিয়ের জন্যে চাপ দেন। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে না করলে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেন শাহনাজ। এতে ক্ষিপ্ত হন মহিউদ্দিন। গত বুধবার শাহনাজকে কোম্পানীগঞ্জ বাজারে ডেকে আনেন। উঠে বসেন একটি বাসে। বাসের মধ্যে বিয়ে নিয়ে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এই দিন রাত ১১টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের গোপালনগর গ্যাস ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় শাহনাজকে নিয়ে যান মহিউদ্দিন। সেখানে মহিউদ্দিন লোহার রড দিয়ে শাহনাজের মাথায় আঘাত করেন, অচেতনের পর শাহনাজের পরনের শাড়ি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। রশি দিয়ে শাহনাজের হাত-পা বেঁধে ব্রিজের নিচ ফেলে চলে যান।
বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ