সুনামগঞ্জের হাওরগুলোয় নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ কাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি চলতি মৌসুমে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্নের সময়সীমা থাকলেও অনেক বাঁধে এখনো চলছে মাটি ফেলার কাজ। এতে করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বাঁধগুলো বৃষ্টিপাত ও বন্যা মোকাবিলায় দুর্বল হবে বলে জানান তারা। শুক্রবার তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের ফসলের সুরক্ষায় নির্মিত বাঁধের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সদরসংলগ্ন রতনশ্রী গ্রামে একটি বাঁধে অর্ধেক মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। ড্রেসিং, দুরমুজ ও ঘাস লাগনোর উদ্যোগ নেই বাঁধটিতে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, ধারেকাছে মাটি না থাকায় অনেক দূর থেকে মাটি এনে বাঁধটি করতে হচ্ছে। যে কারণে এটি এ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি বাঁধগুলোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে দাবি তাঁর। এদিকে, ওই উপজেলার বড়দল গ্রামের উত্তর ও দক্ষিণের কয়েকটি বাঁধে মাটি ফেলার কাজ শেষ হলেও এখন চলছে দুর্মুজ দেওয়ার কাজ। একটি বাঁধেও লাগানো হয়নি ঘাস। ঝুঁঁকিপূর্ণ ভাঙাগুলোয় বাঁশের আড় নির্মাণও করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগরসহ জেলার ১২টি উপজেলার কোথাও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শতভাগ বাঁধের কাজ শেষ হয়নি। বড়দল গ্রামের কৃষক আবদুল আজিজ বলেন, শুরুতে বাঁধ নির্মাণে গড়িমসি করে শেষ পর্যায়ে এসে তাড়াহুড়ো করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পর্যায়ে এসে বাঁধের কাজ শেষ হলে বৃষ্টিপাত শুরু ও বন্যা আসার আগে মাটি বসে যেত, বাঁধ শক্তপোক্ত হয়। কিন্তু দেরিতে করায় বাঁধগুলো দুর্বল হবে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের দাবি, বাঁধের ৯০ ভাগের বেশি কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বাদবাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।