কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে বাগমারা বাজারে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। দুর্ঘটনায় মানুষ হতাহতও হচ্ছেন। সর্বশেষ ২১ ফেব্রুয়ারি এখানে বাসের ধাক্কায় জসিম উদ্দিন নামে একজন নিহত হয়েছেন। যানজটে মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এ জায়গাটা যেন এই মহাসড়কের গলা কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোগান্তিতে পড়ছেন কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুরসহ বেশ কয়েক জেলার মানুষ। এলাকাবাসী ২৩ ফেব্রুয়ারি ফোর লেন বাস্তবায়ন ও যানজট নিরসন দাবিতে মানবন্ধন করেছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লা ও অন্যান্য সূত্র জানায়, কুমিল্লা নগরীর টমছম ব্রিজ থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ৫৯ কিলোমিটার ফোর লেনে উন্নীতকরণে কাজ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়। ২০২০ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। সে কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুই বছরের কাজ শেষ হয়নি আট বছরেও। আরও ৮ কিলোমিটারে কাজ বাকি রয়েছে। তার মধ্যে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা বাজার অংশের, লাকসামের চন্দনা, লাকসাম বাইপাস, লালমাই উপজেলার শানিচৌ অংশের ফোর লেনের কাজ শেষ হয়নি। যাত্রী ও পরিবহন চালকরা জানান, এখানে ফোর লেনের কাজ শেষ না হওয়ায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে পাঁচ ঘণ্টা। ফোর লেন থেকে দুই লেনে এসে সড়ক সরু হওয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা। ভোগান্তিতে পড়ছেন কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরসহ অন্যান্য জেলার যাত্রীরা। কাজ শেষ হলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোসহ সারা দেশের মানুষ উপকার পাবেন। সরেজমিন বাগমারা বাজারে দেখা যায়, সরু সড়ক। তার ওপরে কাঁচা বাজার বসেছে। রয়েছে অটোরিকশার স্ট্যান্ড। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সড়ক লাগোয়া। সেখানে বড় পরিবহন চলতে বাধার সম্মুখীন হয়। সড়ক সংলগ্ন রয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফোর লেনের নোয়াখালী অংশে মহাসড়কের পাশে অনেক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তাই সেখানে কাজের গতি এসেছে। লাকসাম ও বাগমারা অংশেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে বাগমারা বাজারের ফোর লেনের কাজ সম্পন্ন ও ট্রাফিকব্যবস্থা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন, বাগমারা বাজারে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরাসহ পরিবহন মালিক, যাত্রী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দুর্ঘটনায় মানুষ নিহত ও আহত হচ্ছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, কাজের প্রায় ৯৯ ভাগ সমাপ্ত হয়েছে। আট কিলোমিটার এলাকার কাজ শেষ করা যায়নি। আশা করছি আমরা পুরো কাজ দ্রুত শেষ করতে পারব।